একসঙ্গে তিন ভাইবোনের হজের লটারি জয়! আনন্দে সিজদায় লুটলেন সবাই
- Update Time : ০৮:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫৭ Time View

জীবনের একমাত্র স্বপ্ন—পবিত্র হজ পালন। এই স্বপ্ন প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে লালিত হয় সারাজীবন। কেউ ভাগ্যবান হয়ে জীবদ্দশায় সে সুযোগ পান, আবার অনেকেই সেই প্রত্যাশা নিয়েই পৃথিবী ছাড়েন। কিন্তু এমন এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে মিশরে, যা মুসলিম বিশ্বের মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে—একই পরিবারের তিন ভাইবোন একসঙ্গে হজের লটারি জিতে নিয়েছেন!
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ‘দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরের সরকারি হজ লটারি ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমে বড় বোনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। বড় ভাই খবর শুনে সেজদায় লুটিয়ে পড়েন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায়। কিন্তু পরের মুহূর্তেই যখন ঘোষক তাঁর নিজের নামও ঘোষণা করেন, তখন আবেগে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে যান। আনন্দের সেই ধারা থামেনি এখানেই—কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘোষণা করা হয় দ্বিতীয় বোনের নামও। তিন ভাইবোন একসঙ্গে হজের সুযোগ পাওয়ায় উপস্থিত দর্শক, কর্মকর্তা এমনকি ঘোষক নিজেও চোখের পানি লুকাতে পারেননি।
এই অনন্য মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই। মিশরের সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ একে আখ্যা দিয়েছেন “আল্লাহর বিশেষ রহমত” হিসেবে। অনেকে বলেছেন, “এমন অলৌকিক ঘটনা প্রমাণ করে—যার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট, তাঁর জন্যই এমন নিয়ামত সংরক্ষিত থাকে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মিশরে প্রতিবছর লাখো মানুষ হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন, তবে নির্বাচিত হন সীমিত সংখ্যক মানুষ। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড, অর্থাৎ কোনোরূপ মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সফটওয়্যার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় হজযাত্রীদের নাম। সেই কঠোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একই পরিবারের তিন সদস্যের নাম একসঙ্গে ওঠা পরিসংখ্যানগতভাবে প্রায় অসম্ভব একটি ঘটনা।
ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা যেন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিলেন—তাঁর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। যাঁদের ভাগ্যে হজ লেখা থাকে, পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাঁদের থেকে তা কেড়ে নিতে পারে না।
প্রতিবেদনের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই তিন ভাইবোন আগামী ২০২৬ সালে প্রায় ৫০ হাজার মিশরীয় হজযাত্রীর সঙ্গে পবিত্র হজে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে তাঁরা নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং বলেছেন, “এটি শুধু সৌভাগ্য নয়—এটি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার সুযোগ। আমরা যেন এই নিয়ামতের মর্যাদা রাখতে পারি, সেই প্রার্থনাই করছি।”
এই গল্পটি শুধুই এক পরিবারের আনন্দ নয়—বরং এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার বার্তা, যে আল্লাহর অনুগ্রহ আসলে কারো কাছে অসম্ভব নয়।










