আওয়ামী লীগের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে না— ইসির কাছে গণ অধিকার পরিষদের দাবি
- Update Time : ১০:১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২৬ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিস্পর্ধায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবির তালিকা জমা দিয়েছে গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)। বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি দেন দলের একটি প্রতিনিধি দল — এতে দাবির মূল ইস্যু ছিল: আওয়ামী লীগের কোনো নেতা–কর্মী যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে এবং কমিশনের কোনো সংলাপে “আওয়ামী লীগের দোসর” হিসেবে তারা যে দলগুলোকে ঘায়েল করে ডাকে, সেগুলো না ডাকা হোক।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারা স্মারকলিপিতে বলেছে, ‘গণহত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো নেতা–কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না’ — কারণ তাদের ভাষ্য, সন্দেহজনকভাবে স্বতন্ত্র হয়ে অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হয়ে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা নির্বাচন প্রচারণার নামে জনমঞ্চে সক্রিয় হয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। গণ অধিকার পরিষদ একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, গত ১৬ বছরে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তা দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছে; তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করলে তারা আর্থিক ও পেশাগত প্রভাব ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিকৃত করার চেষ্টা করতে পারে।
দলটি আরও দাবি করেছে যে, জাতীয় ঐক্যমত গঠনের নামে যে সংলাপগুলো করা হচ্ছে, সেখানে ২০২৪ সালের ‘ডামি’ হিসেবে আখ্যায়িত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বর্তমান ব্যবস্থার বৈধতা স্বীকার করে এমন দলগুলোকে সময় দেওয়া উচিত নয়। তারা মনে করে, সংলাপের ক্ষেত্র বাছাই করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনকে শুধুমাত্র নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা করতে হবে — আর বিশেষত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে (যাদের তারা ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে) কোনো সংলাপ থেকে বাদ দেওয়া উচিত। স্মারকলিপিতে এই দুইটি দাবিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ইসিকে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে দুইটি নির্দিষ্ট অনুরোধ উঠে এসেছে — একটি, কমিশন যেন কঠোরভাবে নিশ্চিত করে যে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা–কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন না; এবং দ্বিতীয়ত, কমিশনের যে কোনো আলোচনা বা সংলাপে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে আমন্ত্রণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দলটির যুক্তি, এসব পদক্ষেপ নিলে নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত’ পরিবেশে হতে পারবে এবং নির্বাচনকে পুনরায় বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, নির্বাচনী মঞ্চ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দাবি কার্যত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রভাবিত করতে পারে—কারণ স্বাধীন প্রার্থী ও দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, স্থানীয় প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী ব্যক্তিগত চ্যানেল ও ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়েই নির্বাচনী ফল নির্ধারিত হয়ে থাকে। কোনো পক্ষ এমন নিয়ন্ত্রণ চাইলে তা আইনগত ও সংstitutional দিক থেকে কীভাবে সম্ভব হবে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তবু গণ অধিকার পরিষদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনী মাঠে ‘অরাজকতা ও অর্থক্ষমতার অপব্যবহার’ বন্ধ করে একটি ন্যায়সংগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা।
ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ইসির কাছে এমন ধরনের দাবি উঠে আসা এবং বর্ণিত সমস্যাগুলো নিয়ে তর্ক চলছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোথায় দাঁড়ায়, তা নির্ভর করবে কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও আইনগত ব্যাখ্যার ওপর। গণ অধিকার পরিষদ তাদের দাবিতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট: তারা চাইছে নির্বাচন কমিশন যেন স্পষ্টভাবে অবস্থান নেবে এবং উচ্চমাত্রার সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে আসন্ন নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ’ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। আগামী দিনে ইসি কীভাবে এসব অনুরোধ বিবেচনা করে, সেটাই দেখার বিষয়।
















