পাবনা-১ আসনে ধানের শীষ কে পাচ্ছেন: নিজামীর ছেলের বিপরীতে অনিশ্চয়তা ও জোট রাজনীতি
- Update Time : ০৯:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬৪ Time View

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ইতিমধ্যে ৩৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে বাকি পাঁচটি আসন এখনো ফাঁকা রেখেছে দলটি। এই পাঁচটির একটি হলো ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন। এখানেই একসময় নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। এখন তার ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে
স্থানীয় বিএনপি ও জোট-সমর্থকদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্বের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অনিশ্চয়তা এবং ক্ষোভ বাড়ছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, দলটি যদি এই আসন শরিক দলের জন্য ছেড়ে দেয়, তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হবে এবং নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
এক স্থানীয় বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই আসনে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করছি। কিন্তু যদি আবার গণফোরাম বা অন্য শরিককে দেওয়া হয়, তাহলে মাঠে আমাদের নেতাকর্মীদের আগ্রহ হারাবে। এতে ধানের শীষের ভরাডুবি হতে পারে।”
জোট সমীকরণে বিলম্ব
বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্রগুলো জানায়, ফাঁকা রাখা পাঁচটি আসনের প্রতিটিতেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তবে এখনও জোট ও আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই কিছু আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এই আলোচনার কারণেই প্রার্থী চূড়ান্তে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলীয় একাধিক সূত্র।
নিজামীর ছেলের চ্যালেঞ্জ
পাবনা-১ আসনটি জামায়াতের জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ আসন থেকেই মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জামায়াতের রাজনীতি ও প্রভাব এখন অনেকটাই সীমিত হলেও তার ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণে দেরি হলে জামায়াতের পক্ষে মাঠে সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ নাকি সালাহ উদ্দিন খান?
২০১৮ সালের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন খান। তবে শেষ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগির সমঝোতায় বিএনপি এই আসনটি শরিক গণফোরামকে ছেড়ে দেয়। গণফোরামের পক্ষ থেকে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এবারও তার নাম আলোচনায় শীর্ষে রয়েছে।
তবে এবারের নির্বাচনে সালাহ উদ্দিন খান পুনরায় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার পাশাপাশি আরও দুইজন স্থানীয় বিএনপি নেতা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। তারা মনে করেন, গণফোরামকে পুনরায় সুযোগ দিলে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব উপেক্ষিত হবে এবং ভবিষ্যতের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ও কেন্দ্রের কৌশল
পাবনা-১ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত—তিন দলই এই আসনে সংগঠিত এবং ভোটারদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। ফলে বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করলে ভোট ব্যাংক ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, “আমরা এখনো আসন ভাগাভাগির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। পাবনা-১ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। গণফোরাম, জামায়াত এবং স্থানীয় বাস্তবতা—সবকিছু বিবেচনা করেই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।”
নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রতীকটি কাকে দেয়—দীর্ঘদিনের স্থানীয় সংগঠক সালাহ উদ্দিন খানকে, নাকি শরিক দল গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে।
এই সিদ্ধান্ত শুধু পাবনা-১ নয়, রাজশাহী বিভাগের সামগ্রিক নির্বাচনী সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।










