সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি: বেবিচকের বিশেষ নির্দেশনা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৩৫ Time View

চলমান সহিংসতা ও নাশকতার প্রেক্ষাপটে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেবিচকের সদর দপ্তর থেকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে

চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দেশের সব বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি মনিটরিং, ভেহিক্যাল ফুট পেট্রোলিং, নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি এবং সতর্ক প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও আশপাশে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রাখা এবং গ্যাস বৈদ্যুতিক লাইনগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে ১১ দফা নির্দেশনা

বেবিচকের জারি করা নির্দেশনায় যেসব মূল দিকগুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—

১. কেপিআই (Key Point Installation) নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. বিমানবন্দরে কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে; জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
৩. নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে হবে।
৪. বিমানবন্দরের প্রবেশ প্রস্থান পথে র‌্যান্ডম নিরাপত্তা তল্লাশি চালাতে হবে।
৫. যাত্রী, ক্যাবিন ব্যাগেজ, কার্গো ও যানবাহনের যথাযথ স্ক্যানিং তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বিমানবন্দরের অভ্যন্তরের স্পর্শকাতর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ঘন ঘন নিরাপত্তা টহল দিতে হবে।
৭. নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন—স্ক্যানার, মেটাল ডিটেক্টর সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতিদিন পরীক্ষা করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. দায়িত্ব পালনের আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্মীদের নিয়মিত ব্রিফিং

দিতে হবে, যেন তারা সর্বদা সতর্ক থাকে।
৯. সিসিটিভি মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
১০. অগ্নি নিরাপত্তা ফায়ার সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে।
১১. কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

অতিরিক্ত সতর্কতা শাহজালাল বিমানবন্দরেও

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই দেশজুড়ে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এবার আরও বাড়তি সতর্কতা নিরাপত্তা জোরদার করা হলো।

এক বেবিচক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থাপনা। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং মনিটরিং ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হয়েছে।”

সর্বোচ্চ সতর্কতায় বেসামরিক বিমান চলাচল খাত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে এই বাড়তি সতর্কতা দেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তারা অভিমত দিয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি: বেবিচকের বিশেষ নির্দেশনা

Update Time : ০৯:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

চলমান সহিংসতা ও নাশকতার প্রেক্ষাপটে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেবিচকের সদর দপ্তর থেকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে

চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দেশের সব বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি মনিটরিং, ভেহিক্যাল ফুট পেট্রোলিং, নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি এবং সতর্ক প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও আশপাশে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রাখা এবং গ্যাস বৈদ্যুতিক লাইনগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে ১১ দফা নির্দেশনা

বেবিচকের জারি করা নির্দেশনায় যেসব মূল দিকগুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—

১. কেপিআই (Key Point Installation) নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. বিমানবন্দরে কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে; জনসাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
৩. নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে হবে।
৪. বিমানবন্দরের প্রবেশ প্রস্থান পথে র‌্যান্ডম নিরাপত্তা তল্লাশি চালাতে হবে।
৫. যাত্রী, ক্যাবিন ব্যাগেজ, কার্গো ও যানবাহনের যথাযথ স্ক্যানিং তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বিমানবন্দরের অভ্যন্তরের স্পর্শকাতর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ঘন ঘন নিরাপত্তা টহল দিতে হবে।
৭. নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন—স্ক্যানার, মেটাল ডিটেক্টর সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতিদিন পরীক্ষা করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. দায়িত্ব পালনের আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্মীদের নিয়মিত

ব্রিফিং দিতে হবে, যেন তারা সর্বদা সতর্ক থাকে।
৯. সিসিটিভি মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
১০. অগ্নি নিরাপত্তা ফায়ার সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে।
১১. কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

অতিরিক্ত সতর্কতা শাহজালাল বিমানবন্দরেও

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই দেশজুড়ে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এবার আরও বাড়তি সতর্কতা নিরাপত্তা জোরদার করা হলো।

এক বেবিচক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থাপনা। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং মনিটরিং ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হয়েছে।”

সর্বোচ্চ সতর্কতায় বেসামরিক বিমান চলাচল খাত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে এই বাড়তি সতর্কতা দেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তারা অভিমত দিয়েছেন।