সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দশক পর অবশেষে মুক্তি পেলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৩ Time View

প্রায় এক দশক লেবাননের কারাগারে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফি। সোমবার (১০ নভেম্বর) ৯ লাখ মার্কিন ডলারের জামিনে তার মুক্তির নির্দেশ দেয় লেবাননের আদালত। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে জামিনে মুক্তি পেলেও হানিবালের ওপর এখনই স্বাধীনভাবে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এদিকে, বিচার সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই হানিবালের মুক্তি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।

হানিবাল গাদ্দাফিকে ২০১৫ সালে লেবাননে আটক করা হয়েছিল শিয়া নেতা মুসা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তথ্য গোপনের অভিযোগে। জানা যায়, হানিবালকে প্রথমে সিরিয়া থেকে অপহরণ করে লেবাননে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় থেকে তিনি বন্দিদশায় ছিলেন।

ঘটনার পেছনে রয়েছে চার দশক পুরনো এক রহস্য। ১৯৭৮ সালে লেবাননের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা ও আমাল আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মুসা আল-সদর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির আমন্ত্রণে দেশটিতে যান। কিন্তু সেই সফরের পর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকে আল-সদরের অনুসারীরা লিবিয়ার গাদ্দাফি পরিবারের ওপর ওই নিখোঁজের দায় চাপিয়ে আসছেন।

মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর তার পরিবারের সদস্যরা ছড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন দেশে। কেউ কেউ ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় পান, আবার কেউ কেউ বন্দি হন। হানিবাল গাদ্দাফির ক্ষেত্রে সেই বন্দিত্বের অধ্যায়ই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

হানিবালের মুক্তি লিবিয়া ও লেবানন উভয় দেশেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এই মুক্তি কেবল আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লিবিয়া এখনো গাদ্দাফি পরিবারের প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি। অন্যদিকে, মুসা আল-সদরের নিখোঁজ রহস্য আজও অনুত্তরিত রয়ে গেছে—যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো লেবানন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, হানিবালের বিরুদ্ধে তদন্ত যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে চালানো হয় এবং মুসা আল-সদরের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে, গাদ্দাফি পরিবারের আইনজীবীরা বলছেন, হানিবালকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দৃঢ় প্রমাণ নেই।

দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে মুক্তি পেলেও, হানিবাল গাদ্দাফির জীবনে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। লেবাননের আদালত ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর নজর এখন তার ওপরই—তিনি কি সত্যিই অপরাধে জড়িত ছিলেন, নাকি এক দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিশোধের বলি—তা হয়তো ইতিহাসই বলবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক দশক পর অবশেষে মুক্তি পেলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফি

Update Time : ০২:৫১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

প্রায় এক দশক লেবাননের কারাগারে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফি। সোমবার (১০ নভেম্বর) ৯ লাখ মার্কিন ডলারের জামিনে তার মুক্তির নির্দেশ দেয় লেবাননের আদালত। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে জামিনে মুক্তি পেলেও হানিবালের ওপর এখনই স্বাধীনভাবে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এদিকে, বিচার সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই হানিবালের মুক্তি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।

হানিবাল গাদ্দাফিকে ২০১৫ সালে লেবাননে আটক করা হয়েছিল শিয়া নেতা মুসা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তথ্য গোপনের অভিযোগে। জানা যায়, হানিবালকে প্রথমে সিরিয়া থেকে অপহরণ করে লেবাননে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় থেকে তিনি বন্দিদশায় ছিলেন।

ঘটনার পেছনে রয়েছে চার দশক পুরনো এক রহস্য। ১৯৭৮ সালে লেবাননের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা ও আমাল আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মুসা আল-সদর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির আমন্ত্রণে দেশটিতে যান। কিন্তু সেই সফরের পর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকে আল-সদরের অনুসারীরা লিবিয়ার গাদ্দাফি পরিবারের ওপর ওই নিখোঁজের দায় চাপিয়ে আসছেন।

মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর তার পরিবারের সদস্যরা ছড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন দেশে। কেউ কেউ ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় পান, আবার কেউ কেউ বন্দি হন। হানিবাল গাদ্দাফির ক্ষেত্রে সেই বন্দিত্বের অধ্যায়ই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

হানিবালের মুক্তি লিবিয়া ও লেবানন উভয় দেশেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এই মুক্তি কেবল আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লিবিয়া এখনো গাদ্দাফি পরিবারের প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি। অন্যদিকে, মুসা আল-সদরের নিখোঁজ রহস্য আজও অনুত্তরিত রয়ে গেছে—যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো লেবানন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, হানিবালের বিরুদ্ধে তদন্ত যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে চালানো হয় এবং মুসা আল-সদরের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে, গাদ্দাফি পরিবারের আইনজীবীরা বলছেন, হানিবালকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দৃঢ় প্রমাণ নেই।

দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে মুক্তি পেলেও, হানিবাল গাদ্দাফির জীবনে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। লেবাননের আদালত ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর নজর এখন তার ওপরই—তিনি কি সত্যিই অপরাধে জড়িত ছিলেন, নাকি এক দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিশোধের বলি—তা হয়তো ইতিহাসই বলবে।