সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে দুঃসংবাদ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৬ Time View

বছরের শেষ প্রান্তে এসে আবারও সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপছে নতুন বোঝা— সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে পারে টাকা ২৭ পয়সা

আন্তর্জাতিক বাজার ডলার দরের প্রভাব

সোমবার (১০ নভেম্বর) কমিশনের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং এলসি (Letter of Credit) খরচ বাড়ায় দেশে তেলের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।
নভেম্বরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়ায় ১,০৬২ ডলার, যা পাম তেলের ক্ষেত্রে ১,০৩৭ ডলার। ফলে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রস্তাবিত নতুন দাম

কমিশন জানায়, গত ২৭ জুলাইয়ের মূল্য সমন্বয় সভায় ৩ আগস্ট থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা দরে বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই দাম আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • বোতলজাত সয়াবিন তেল: লিটারপ্রতি ৯ টাকা ২৭ পয়সা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা ২৭ পয়সা,
  • খোলা সয়াবিন তেল: লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা ৮৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশে ডলার প্রতি ১২২ টাকা ৬০ পয়সা বিনিময় হার ধরে পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম সুপার তেলের মূল্য পুনঃসমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।

এক বছরে ১৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশের বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতে যেখানে দাম ছিল ১৭৪–১৭৫ টাকার মধ্যে, সেখানে এখন তা প্রায় ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।

ভোক্তাদের উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শেষ প্রান্তে ভোজ্যতেলের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ব্যয়কে আরও চাপে ফেলবে। ইতোমধ্যেই চাল, ডাল, চিনি, ডিম ও সবজির দাম উর্ধ্বমুখী; তার ওপর ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলুল করিম বলেন,

“তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু রান্নার খরচেই সীমিত থাকে না— এটি পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং খাদ্যপণ্যের উৎপাদন খরচেও প্রভাব ফেলে। ফলে এটি এক ধরনের ‘মাল্টিপ্লায়ার ইনফ্লেশন’ তৈরি করে।”

সরকারের অবস্থান

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিটিটিসির এই সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম কার্যকর হতে পারে।
তবে সরকার চাইছে, বাজারে অতিরিক্ত মজুত বা অস্থিরতা সৃষ্টি না করে তেল কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে নতুন দাম প্রয়োগ করুক।

যেখানে জনগণ ইতোমধ্যেই দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে জর্জরিত, সেখানে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি বছরের শেষদিকে আরও একটি দুঃসংবাদ’ হয়ে এলো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে— আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় ভোক্তা কতদিন এই অতিরিক্ত চাপ বহন করতে পারবে?

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে দুঃসংবাদ

Update Time : ০৬:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বছরের শেষ প্রান্তে এসে আবারও সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপছে নতুন বোঝা— সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে পারে টাকা ২৭ পয়সা

আন্তর্জাতিক বাজার ডলার দরের প্রভাব

সোমবার (১০ নভেম্বর) কমিশনের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং এলসি (Letter of Credit) খরচ বাড়ায় দেশে তেলের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।
নভেম্বরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়ায় ১,০৬২ ডলার, যা পাম তেলের ক্ষেত্রে ১,০৩৭ ডলার। ফলে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রস্তাবিত নতুন দাম

কমিশন জানায়, গত ২৭ জুলাইয়ের মূল্য সমন্বয় সভায় ৩ আগস্ট থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা দরে বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই দাম আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • বোতলজাত সয়াবিন তেল: লিটারপ্রতি ৯ টাকা ২৭ পয়সা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা ২৭ পয়সা,
  • খোলা সয়াবিন তেল: লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা ৮৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশে ডলার প্রতি ১২২ টাকা ৬০ পয়সা বিনিময় হার ধরে পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম সুপার তেলের মূল্য পুনঃসমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।

এক বছরে ১৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশের বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতে যেখানে দাম ছিল ১৭৪–১৭৫ টাকার মধ্যে, সেখানে এখন তা প্রায় ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।

ভোক্তাদের উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শেষ প্রান্তে ভোজ্যতেলের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ব্যয়কে আরও চাপে ফেলবে। ইতোমধ্যেই চাল, ডাল, চিনি, ডিম ও সবজির দাম উর্ধ্বমুখী; তার ওপর ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলুল করিম বলেন,

“তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু রান্নার খরচেই সীমিত থাকে না— এটি পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং খাদ্যপণ্যের উৎপাদন খরচেও প্রভাব ফেলে। ফলে এটি এক ধরনের ‘মাল্টিপ্লায়ার ইনফ্লেশন’ তৈরি করে।”

সরকারের অবস্থান

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিটিটিসির এই সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম কার্যকর হতে পারে।
তবে সরকার চাইছে, বাজারে অতিরিক্ত মজুত বা অস্থিরতা সৃষ্টি না করে তেল কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে নতুন দাম প্রয়োগ করুক।

যেখানে জনগণ ইতোমধ্যেই দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে জর্জরিত, সেখানে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি বছরের শেষদিকে আরও একটি দুঃসংবাদ’ হয়ে এলো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে— আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় ভোক্তা কতদিন এই অতিরিক্ত চাপ বহন করতে পারবে?