সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৪২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১৩ Time View

পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দিবালোকে গুলিতে নিহত হয়েছেন কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন (৫৫)। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুজন মোটরসাইকেল আরোহী হঠাৎ এসে মামুনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মামুন একসময় রাজধানীর তেজগাঁও, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর সহযোগী ছিলেন আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন। এই দুইজনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ভয়ঙ্কর ইমন–মামুন বাহিনী’, যারা ২০০০-এর দশকের শুরুতে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, মামুন ছিলেন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলা এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় এবং জন্ম ১৯৭০ সালে

এটাই প্রথম নয়, মামুন এর আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীল আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। তৎকালীন তদন্তে পুলিশ জানায়, ওই হামলা চালিয়েছিল কারাবন্দী সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপের অনুসারীরা। এর কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পান মামুন।

ঘটনার দিন সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোতোয়ালি থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন বলেন, “গুলির শব্দ শুনে আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে দেখি একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে আছেন। তাঁকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।”

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি টার্গেট

কিলিং। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়রা মামুনকে দ্রুত হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত ব্যক্তি ছিলেন ইমন গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন। ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। অপরাধীদের শনাক্তে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি রাজধানীতে পুরোনো সন্ত্রাসী চক্রগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাঁদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, “মামুন দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে ব্যবসার আড়ালে পুরোনো প্রভাব ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছিলেন।” তবে পুলিশ বলছে, নিহত মামুনের নামে এখনও একাধিক মামলা চলমান এবং তাঁর সঙ্গে পুরোনো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডে পুরান ঢাকা নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী বলছেন, “বহু বছর পর এমন ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটল। আমরা আতঙ্কে আছি।”

পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে গুলি খোসা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুরান ঢাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন

Update Time : ০৯:৪২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দিবালোকে গুলিতে নিহত হয়েছেন কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন (৫৫)। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুজন মোটরসাইকেল আরোহী হঠাৎ এসে মামুনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মামুন একসময় রাজধানীর তেজগাঁও, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর সহযোগী ছিলেন আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন। এই দুইজনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ভয়ঙ্কর ইমন–মামুন বাহিনী’, যারা ২০০০-এর দশকের শুরুতে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, মামুন ছিলেন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলা এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় এবং জন্ম ১৯৭০ সালে

এটাই প্রথম নয়, মামুন এর আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীল আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। তৎকালীন তদন্তে পুলিশ জানায়, ওই হামলা চালিয়েছিল কারাবন্দী সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপের অনুসারীরা। এর কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পান মামুন।

ঘটনার দিন সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোতোয়ালি থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন বলেন, “গুলির শব্দ শুনে আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে দেখি একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে আছেন। তাঁকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।”

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি টার্গেট

কিলিং। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়রা মামুনকে দ্রুত হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত ব্যক্তি ছিলেন ইমন গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন। ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। অপরাধীদের শনাক্তে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি রাজধানীতে পুরোনো সন্ত্রাসী চক্রগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাঁদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, “মামুন দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে ব্যবসার আড়ালে পুরোনো প্রভাব ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছিলেন।” তবে পুলিশ বলছে, নিহত মামুনের নামে এখনও একাধিক মামলা চলমান এবং তাঁর সঙ্গে পুরোনো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডে পুরান ঢাকা নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী বলছেন, “বহু বছর পর এমন ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটল। আমরা আতঙ্কে আছি।”

পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে গুলি খোসা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে।