দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ,উচ্চ সতর্কতা জারি — বহু হতাহতের আশঙ্কা
- Update Time : ০৮:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৭৭ Time View

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার অদূরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এতে বহু মানুষ হতাহত হতে পারেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের সামনে পার্ক করে রাখা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশে থাকা আরও তিন থেকে চারটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
দিল্লি দমকল বিভাগ (ডিএফএস) এক বিবৃতিতে জানায়, বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে তারা লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের খবর পায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, মূল বিস্ফোরণের পর আরও তিন থেকে চারটি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত না হলেও কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ। আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না এটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি পরিকল্পিত হামলা। তবে সব দিকেই তদন্ত চলছে।”
বিস্ফোরণের কারণে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের আশপাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এলাকাজুড়ে। ঘটনাস্থলের অদূরে অবস্থিত পর্যটন এলাকাগুলিতেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের ভবন কেঁপে ওঠে। অনেকেই ভয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে, কিন্তু পরে দেখি কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম।”
এখনও পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তবে দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে যেমন লাল কেল্লা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার থাকে, তেমনি এই সময়টিতেও এলাকায় পর্যটকদের ভিড় থাকায় লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকেও ঘটনাটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দমকল ও পুলিশ কর্মকর্তারা রাতভর অভিযান চালিয়ে এলাকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছেন।
ঘটনাটি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।










