১৩ নভেম্বর ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি: রাজধানীর ৫০ থানায় বিশেষ মোবিলাইজেশন ও মহড়া
- Update Time : ০৮:০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৬০ Time View

আসন্ন ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের পর থেকেই রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সরকারবিরোধী সম্ভাব্য আন্দোলন, অবরোধ ও সহিংসতা মোকাবিলায় রাজধানীর ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে মোবিলাইজেশন মহড়া শুরু করা হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) ডিএমপি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে নির্দেশনা অনুযায়ী থানা পর্যায়ে প্রায় সাত হাজার পুলিশ সদস্যকে মোবিলাইজেশন কন্টিনজেন্টের মাধ্যমে মহড়া দিতে বলা হয়। এতে টহল ইউনিট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল, পরিবহন ও বলপ্রয়োগকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। লক্ষ্য—রায়ের দিন ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা বা আক্রমণের আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। (kalerkantho.com, Ajkerpatrika)
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং তাদের সমর্থকরা ওই দিনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় আকারের কর্মসূচি ও অচলাবস্থার চেষ্টা চালাতে পারে। ভারত থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় একজন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা “ঢাকা লকডাউন” কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ১০ নভেম্বর থেকেই ঢাকার প্রবেশপথ, আবাসিক হোটেল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভাড়া বাসায় তল্লাশি অভিযান শুরু হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ টহল বাড়ানো হচ্ছে। (BD Today)
শনিবার বিকেল থেকেই ধানমন্ডি, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, গেন্ডারিয়া ও রামপুরা এলাকাজুড়ে পুলিশি উপস্থিতি বেড়েছে। রাস্তায় চেকপোস্ট, টহল ভ্যান এবং মোটরসাইকেল স্কোয়াডের দেখা মেলে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান—“১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। থানাভিত্তিক মোবিলাইজেশন কন্টিনজেন্ট আমাদের নিয়মিত প্রস্তুতির অংশ, তবে এবার তা আরও জোরদার করা হয়েছে।” (Ajkerpatrika)
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নাশকতা বা অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় প্রশাসন আগেভাগেই “প্রতিরোধমূলক তৎপরতা” চালু করেছে। পুলিশ বলছে, সম্ভাব্য ঘটনার আগে প্রতিরোধ এবং ঘটলে দ্রুত দমন করাই এখন অগ্রাধিকার। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর গণপরিবহন, বিপণিবিতান, সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত টিম বা মোবাইল ইউনিটও মোতায়েন করা হবে।
একই সঙ্গে তথ্য একীভূতকরণ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য ডিএমপি, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে—বৈধ ও শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে, তবে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে—অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে। (বাংলা টেলিগ্রাফ)
(রিপোর্ট: ডিএমপি ও সংশ্লিষ্ট থানা সূত্র; তথ্য সংগৃহীত জাতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে)










