সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাটডাউনে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র: এক দিনে বাতিল ১,৪০০ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে লাখো যাত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০১:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৭ Time View

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকার অচলাবস্থা বা ‘শাটডাউন’-এর প্রভাবে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী বিভিন্ন বিমানবন্দরে অন্তত ১,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং প্রায় ৬,০০০ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে—যার ফলে লাখো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।

ফ্লাইট মনিটরিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার (FlightAware) জানিয়েছে, শুক্রবারেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭,০০০ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়েছিল। শনিবার পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করে, বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এফএএর সতর্কতা সংকটের পটভূমি

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) গত সপ্তাহেই সতর্ক করেছিল যে চলমান শাটডাউনের কারণে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ৪০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট সংখ্যা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হবে। কারণ, সরকার বন্ধ থাকায় অনেক বিমান নিয়ন্ত্রণকর্মী (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) বেতন পাচ্ছেন না এবং অনেকে বাধ্য হয়ে কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এফএএ জানিয়েছে, এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফ্লাইট হ্রাস করা হচ্ছে—শুক্রবার শতাংশ, ১১ নভেম্বর শতাংশ, ১৩ নভেম্বর শতাংশ এবং ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের দীর্ঘতম অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান শাটডাউন শুরু হয় অক্টোবর থেকে। এরই মধ্যে এটি ৩৯তম দিনে প্রবেশ করেছে—যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ অচলাবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাজেট পাস ও সরকার পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ নিয়ে এখনও সমঝোতা হয়নি।

এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ফেডারেল কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিমান চলাচল, খাদ্য নিরাপত্তা, ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমও এখন বিপর্যস্ত।

এয়ারলাইন্সগুলোর

জরুরি আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স শনিবার এক বিবৃতিতে নেতাদের প্রতি অবিলম্বে সমঝোতায় পৌঁছানোর” আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, “শাটডাউন অব্যাহত থাকলে শুধু বিমান চলাচল নয়, সমগ্র দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে।”

অন্যদিকে, সিনেটররা সপ্তাহান্তেও সমঝোতা আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। তবে এখনও কোনো পক্ষ সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তাহলে ফ্লাইট চলাচল প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও পর্যটনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ভোগান্তির চিত্র

নিউ জার্সির নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে শনিবার বিকেলে ফ্লাইটগুলোর গড়ে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কিছু ফ্লাইট চার ঘণ্টারও বেশি দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফ্লাইট বিলম্বের কারণে হোটেল খরচ, খাবার ও বিকল্প যাতায়াতের বাড়তি ব্যয় তাদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাটডাউন যত দীর্ঘায়িত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাত তত বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি এয়ারলাইন তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন এনেছে এবং কিছু রুট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এই শাটডাউন কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক নয়—এটি এখন সাধারণ নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতি এবং দেশের সুনামকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সূত্র: বিবিসি, ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার, নিউ ইয়র্ক টাইমস

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শাটডাউনে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র: এক দিনে বাতিল ১,৪০০ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে লাখো যাত্রী

Update Time : ০১:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকার অচলাবস্থা বা ‘শাটডাউন’-এর প্রভাবে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী বিভিন্ন বিমানবন্দরে অন্তত ১,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং প্রায় ৬,০০০ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে—যার ফলে লাখো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।

ফ্লাইট মনিটরিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার (FlightAware) জানিয়েছে, শুক্রবারেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭,০০০ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়েছিল। শনিবার পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করে, বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এফএএর সতর্কতা সংকটের পটভূমি

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) গত সপ্তাহেই সতর্ক করেছিল যে চলমান শাটডাউনের কারণে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ৪০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট সংখ্যা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হবে। কারণ, সরকার বন্ধ থাকায় অনেক বিমান নিয়ন্ত্রণকর্মী (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) বেতন পাচ্ছেন না এবং অনেকে বাধ্য হয়ে কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এফএএ জানিয়েছে, এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফ্লাইট হ্রাস করা হচ্ছে—শুক্রবার শতাংশ, ১১ নভেম্বর শতাংশ, ১৩ নভেম্বর শতাংশ এবং ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের দীর্ঘতম অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান শাটডাউন শুরু হয় অক্টোবর থেকে। এরই মধ্যে এটি ৩৯তম দিনে প্রবেশ করেছে—যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ অচলাবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাজেট পাস ও সরকার পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ নিয়ে এখনও সমঝোতা হয়নি।

এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ফেডারেল কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিমান চলাচল, খাদ্য নিরাপত্তা, ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমও এখন বিপর্যস্ত।

এয়ারলাইন্সগুলোর জরুরি আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স শনিবার এক বিবৃতিতে নেতাদের প্রতি অবিলম্বে সমঝোতায় পৌঁছানোর” আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, “শাটডাউন অব্যাহত থাকলে শুধু বিমান চলাচল নয়, সমগ্র দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে।”

অন্যদিকে, সিনেটররা সপ্তাহান্তেও সমঝোতা আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। তবে এখনও কোনো পক্ষ সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তাহলে ফ্লাইট চলাচল প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও পর্যটনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ভোগান্তির চিত্র

নিউ জার্সির নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে শনিবার বিকেলে ফ্লাইটগুলোর গড়ে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কিছু ফ্লাইট চার ঘণ্টারও বেশি দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফ্লাইট বিলম্বের কারণে হোটেল খরচ, খাবার ও বিকল্প যাতায়াতের বাড়তি ব্যয় তাদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাটডাউন যত দীর্ঘায়িত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাত তত বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি এয়ারলাইন তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন এনেছে এবং কিছু রুট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এই শাটডাউন কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক নয়—এটি এখন সাধারণ নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতি এবং দেশের সুনামকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সূত্র: বিবিসি, ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার, নিউ ইয়র্ক টাইমস