গণতন্ত্রের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য: তারেক রহমান
- Update Time : ১০:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৬৪ Time View

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও তার বিকাশ নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা কেবল তখনই সম্ভব, যখন জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়।
মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক বাণীতে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে আবারও চক্রান্তের গোপন পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে নিজেদের হাতে বন্দি করে রেখেছিল। এই ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে, রাষ্ট্রপরিচালনায় নতজানু নীতি ও দুর্নীতি সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার গণতন্ত্রপন্থী নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমননীতি চালিয়েছে—গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর নির্যাতন, দুর্নীতি ও অপশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভয় ও আতঙ্কের ঘরে পরিণত করেছিল। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বছরের পর বছর অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও প্রমাণ করেছে—তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে। জনগণের আত্মত্যাগের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং গণতন্ত্রের মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। এখন আমাদের দায়িত্ব—সেই আত্মত্যাগকে অর্থবহ করে তোলা। চূড়ান্ত গণতন্ত্রের চর্চার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হবে সেই সংগ্রামের পরিণতি।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা কেবল রাজনীতিতে নয়, দেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপরও আগ্রাসন চালাতে দিয়েছে। তারা জাতীয় চেতনা ধ্বংস করতে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল জোরদার করতে বিদেশি প্রভাবের কাছে মাথা নত করেছে। তাই আজ জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর ঐক্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জরুরি। ৭ই নভেম্বরের চেতনা আমাদের শেখায়—জাতীয় ঐক্যের শক্তিই পারে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। এটি শুধু একটি বিদ্রোহ নয়, বরং আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয়ের সূচনা। এই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়।”
তারেক রহমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ৭ নভেম্বরের সেই জাতীয় চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার সর্বোচ্চ মূল্য পায়।”










