সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮৩কোটি টাকার প্রকল্পে নেতৃত্বহীনতা ও বিভ্রান্তি: ইউনূস ও রীয়াজের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৩১ Time View

নয় মাসের দীর্ঘ সময়, ৮৩ কোটি টাকার বিপুল ব্যয়—তারপরও শেষ পর্যন্ত “দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া”। এমনই অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর, যিনি সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে আলী রীয়াজের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, “ড. ইউনূসের পক্ষে এতদিন যিনি মাঠে ছিলেন, সেই আলী রীয়াজ এখন বলছেন—রাজনৈতিক দলগুলো বসে সিদ্ধান্ত নিক। তাহলে প্রথম থেকেই কেন তিনি সেই পথের কথা বলেননি?”

মোশাররফ আহমেদ বলেন, “নয় মাস ধরে ৮৩ কোটি টাকা খরচ হলো। অথচ এখন এসে বলা হচ্ছে, দলগুলো সিদ্ধান্ত নিক! যদি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হতো, তাহলে শুরুতেই অন্তত একটি রূপরেখা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া যেত। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম—পাঁচ-দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর একটি নীতিগত মতামত পাওয়া যাবে, যার ভিত্তিতে দলগুলো আলোচনায় বসতে পারবে। কিন্তু তা হয়নি, বরং সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হলো।”

তিনি আরও বলেন, “ড. আসিফ নজরুল যেভাবে বলেছেন—‘মাঠও নাই, পুরোহিতও নাই’—তা যথার্থ। কারণ আগে মাঠে ছিলেন আলী রীয়াজ, তিনি ছিলেন ইউনূসের পক্ষে একধরনের পুরোহিত। আর এখন তিনি সবকিছু ফেলে হাত গুটিয়ে নিলেন। এই সিদ্ধান্তহীনতা আসলে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।”

আলোচনায় মোশাররফ আহমেদ আলী রীয়াজের কর্মকাণ্ডের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “নয় মাসের পর এসে আপনি বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিক। এর আগে চার মাস কাটালেন বুকিশ আর হজপজ কাজ করে। এই সময়টা কি আদৌ ফলপ্রসূ ছিল? গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এমন দোদুল্যমান অবস্থান খুবই হতাশাজনক। দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা তখন ভঙ্গুর অবস্থায়—সে সময় নেতৃত্বের দরকার ছিল দৃঢ়তা, দ্বিধা নয়।”

ড. ইউনূসের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে নই। বরং তাঁর প্রতি আমার প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু তিনি যা দিয়েছেন, তা হলো একেবারে ‘মূষিক প্রসব’। অর্থাৎ, নয় মাসের শ্রম, সময় ও অর্থের ফলাফল হলো একটি তুচ্ছ সমাধান—যা জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

মোশাররফ আহমেদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দুই ধরনের ক্ষোভ হতাশা—একদিকে আলী রীয়াজের নীরব সরে দাঁড়ানো, অন্যদিকে ড. ইউনূসের ব্যর্থ নেতৃত্ব। তাঁর মতে, এই সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন পলায়নপর মনোভাব দেশ ও জনগণের প্রতি অন্যায়। “যখন জাতি উত্তরণের দিশা খুঁজছে, তখন যারা নেতৃত্বের আসনে, তাদের কাছ থেকে আমরা দৃঢ়তা, পরিকল্পনা আর দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করি—কিন্তু তাঁরা দিলেন অনিশ্চয়তা আর নির্লিপ্ততা,” বলেন মোশাররফ।

তিনি আরও যোগ করেন, “এই দেশের প্রতিটি নাগরিক আজ চায় একটুখানি আশার আলো। সেই আলো দেখানোর দায়িত্ব যাদের, তারা যদি নিজেরাই আলো নিভিয়ে দেন, তাহলে জাতির পথ অন্ধকারে ঢেকে যায়। ৮৩ কোটি টাকার প্রকল্প যদি ‘মূষিক প্রসব’-এর মধ্যেই শেষ হয়, তাহলে সেটি শুধু ব্যর্থতা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক অন্যায়।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৮৩কোটি টাকার প্রকল্পে নেতৃত্বহীনতা ও বিভ্রান্তি: ইউনূস ও রীয়াজের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

Update Time : ০৯:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

নয় মাসের দীর্ঘ সময়, ৮৩ কোটি টাকার বিপুল ব্যয়—তারপরও শেষ পর্যন্ত “দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া”। এমনই অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর, যিনি সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে আলী রীয়াজের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, “ড. ইউনূসের পক্ষে এতদিন যিনি মাঠে ছিলেন, সেই আলী রীয়াজ এখন বলছেন—রাজনৈতিক দলগুলো বসে সিদ্ধান্ত নিক। তাহলে প্রথম থেকেই কেন তিনি সেই পথের কথা বলেননি?”

মোশাররফ আহমেদ বলেন, “নয় মাস ধরে ৮৩ কোটি টাকা খরচ হলো। অথচ এখন এসে বলা হচ্ছে, দলগুলো সিদ্ধান্ত নিক! যদি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকেই যেতে হতো, তাহলে শুরুতেই অন্তত একটি রূপরেখা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া যেত। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম—পাঁচ-দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর একটি নীতিগত মতামত পাওয়া যাবে, যার ভিত্তিতে দলগুলো আলোচনায় বসতে পারবে। কিন্তু তা হয়নি, বরং সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হলো।”

তিনি আরও বলেন, “ড. আসিফ নজরুল যেভাবে বলেছেন—‘মাঠও নাই, পুরোহিতও নাই’—তা যথার্থ। কারণ আগে মাঠে ছিলেন আলী রীয়াজ, তিনি ছিলেন ইউনূসের পক্ষে একধরনের পুরোহিত। আর এখন তিনি সবকিছু ফেলে হাত গুটিয়ে নিলেন। এই সিদ্ধান্তহীনতা আসলে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।”

আলোচনায় মোশাররফ আহমেদ আলী রীয়াজের কর্মকাণ্ডের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “নয় মাসের পর এসে আপনি বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিক। এর আগে চার মাস কাটালেন বুকিশ আর হজপজ কাজ করে। এই সময়টা কি আদৌ ফলপ্রসূ ছিল? গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এমন দোদুল্যমান অবস্থান খুবই হতাশাজনক। দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা তখন ভঙ্গুর অবস্থায়—সে সময় নেতৃত্বের দরকার ছিল দৃঢ়তা, দ্বিধা নয়।”

ড. ইউনূসের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে নই। বরং তাঁর প্রতি আমার প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু তিনি যা দিয়েছেন, তা হলো একেবারে ‘মূষিক প্রসব’। অর্থাৎ, নয় মাসের শ্রম, সময় ও অর্থের ফলাফল হলো একটি তুচ্ছ সমাধান—যা জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

মোশাররফ আহমেদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দুই ধরনের ক্ষোভ হতাশা—একদিকে আলী রীয়াজের নীরব সরে দাঁড়ানো, অন্যদিকে ড. ইউনূসের ব্যর্থ নেতৃত্ব। তাঁর মতে, এই সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন পলায়নপর মনোভাব দেশ ও জনগণের প্রতি অন্যায়। “যখন জাতি উত্তরণের দিশা খুঁজছে, তখন যারা নেতৃত্বের আসনে, তাদের কাছ থেকে আমরা দৃঢ়তা, পরিকল্পনা আর দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করি—কিন্তু তাঁরা দিলেন অনিশ্চয়তা আর নির্লিপ্ততা,” বলেন মোশাররফ।

তিনি আরও যোগ করেন, “এই দেশের প্রতিটি নাগরিক আজ চায় একটুখানি আশার আলো। সেই আলো দেখানোর দায়িত্ব যাদের, তারা যদি নিজেরাই আলো নিভিয়ে দেন, তাহলে জাতির পথ অন্ধকারে ঢেকে যায়। ৮৩ কোটি টাকার প্রকল্প যদি ‘মূষিক প্রসব’-এর মধ্যেই শেষ হয়, তাহলে সেটি শুধু ব্যর্থতা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক অন্যায়।”