সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৩৯ Time View

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী বছর সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ২৮ দিন, যার মধ্যে দিন শুক্রবার শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ কার্যত সরকারি দপ্তরগুলোতে ১৯ দিন আলাদা সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা প্রণয়নে ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক পালিত দিবস এবং মৌলিক সরকারি ছুটির দিনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি যথারীতি থাকবে। পাশাপাশি বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব যেমন—বুদ্ধ পূর্ণিমা, দুর্গাপূজা ও বড়দিনের ছুটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জাতীয় দিবসগুলোর মধ্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস (১৭ মার্চ), বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) এবং পহেলা বৈশাখও সরকারি ছুটি হিসেবে বজায় থাকবে।

এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঐচ্ছিক ছুটিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারি দপ্তর, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সরকারি ব্যাংকগুলোতে এই ছুটি সমভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মদিবস সমন্বয় করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সরকারি ছুটির তালিকা প্রণয়ন সব সময়ই নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য, প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান রেখে করা হয়। এবারের তালিকাও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।”

সরকারি ছুটির এই অনুমোদনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের সরকারি কার্যক্রমের ক্যালেন্ডারও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেল। এখন শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গেজেট আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন

Update Time : ০৫:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী বছর সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ২৮ দিন, যার মধ্যে দিন শুক্রবার শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ কার্যত সরকারি দপ্তরগুলোতে ১৯ দিন আলাদা সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা প্রণয়নে ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক পালিত দিবস এবং মৌলিক সরকারি ছুটির দিনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি যথারীতি থাকবে। পাশাপাশি বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব যেমন—বুদ্ধ পূর্ণিমা, দুর্গাপূজা ও বড়দিনের ছুটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জাতীয় দিবসগুলোর মধ্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস (১৭ মার্চ), বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) এবং পহেলা বৈশাখও সরকারি ছুটি হিসেবে বজায় থাকবে।

এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঐচ্ছিক ছুটিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারি দপ্তর, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সরকারি ব্যাংকগুলোতে এই ছুটি সমভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মদিবস সমন্বয় করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সরকারি ছুটির তালিকা প্রণয়ন সব সময়ই নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য, প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান রেখে করা হয়। এবারের তালিকাও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।”

সরকারি ছুটির এই অনুমোদনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের সরকারি কার্যক্রমের ক্যালেন্ডারও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেল। এখন শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গেজেট আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হবে।