সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ ‘গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২৯ Time View

দেশে গুমের মতো জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে চিরতরে বন্ধ করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বহুল আলোচিত গুম প্রতিকার প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর। নতুন এই অধ্যাদেশে গুমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে—যা বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫”-এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেছে। গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, এ আইন ভবিষ্যতে এমন অপরাধ পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ভূমিকা রাখবে।

শফিকুল আলম আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে জাতীয় লজিস্টিক নীতিরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল গুমবিরোধী এই অধ্যাদেশ। নতুন আইনে শুধু শাস্তির বিধানই নয়, গুমের তদন্ত প্রতিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণ তদন্তক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই আইনের ফলে দেশে আর কোনো সরকার বা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। এখন থেকে যেকোনো নাগরিকের নিখোঁজের ঘটনা হলে তা আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে তদন্ত ও বিচার হবে।”

আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাই এই অধ্যাদেশ শুধু মানবাধিকার রক্ষারই নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের এক সাহসী উদ্যোগ।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারিভাবে কারও অবৈধভাবে আটক, অপহরণ বা নিখোঁজ করায় জড়িত থাকে এবং সেই ব্যক্তির পরিণতি গোপন রাখে—তবে তা গুম অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকবে।

অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের পর আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ, যেখানে গুম প্রতিরোধে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি কার্যকরভাবে আইনগতভাবে প্রণীত হবে।

চূড়ান্তভাবে, “গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫” শুধু একটি আইন নয়—এটি নাগরিক নিরাপত্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায় সূচিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

 মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ ‘গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদন

Update Time : ০৪:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

দেশে গুমের মতো জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে চিরতরে বন্ধ করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বহুল আলোচিত গুম প্রতিকার প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর। নতুন এই অধ্যাদেশে গুমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে—যা বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫”-এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেছে। গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, এ আইন ভবিষ্যতে এমন অপরাধ পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ভূমিকা রাখবে।

শফিকুল আলম আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে জাতীয় লজিস্টিক নীতিরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল গুমবিরোধী এই অধ্যাদেশ। নতুন আইনে শুধু শাস্তির বিধানই নয়, গুমের তদন্ত প্রতিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণ তদন্তক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই আইনের ফলে দেশে আর কোনো সরকার বা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। এখন থেকে যেকোনো নাগরিকের নিখোঁজের ঘটনা হলে তা আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে তদন্ত ও বিচার হবে।”

আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাই এই অধ্যাদেশ শুধু মানবাধিকার রক্ষারই নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের এক সাহসী উদ্যোগ।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারিভাবে কারও অবৈধভাবে আটক, অপহরণ বা নিখোঁজ করায় জড়িত থাকে এবং সেই ব্যক্তির পরিণতি গোপন রাখে—তবে তা গুম অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকবে।

অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের পর আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ, যেখানে গুম প্রতিরোধে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি কার্যকরভাবে আইনগতভাবে প্রণীত হবে।

চূড়ান্তভাবে, “গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫” শুধু একটি আইন নয়—এটি নাগরিক নিরাপত্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায় সূচিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।