সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাসদরে ব্রিফিং: সেনাবাহিনীর প্রত্যাশা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৪২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা দেশের মতোই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। বুধবার দুপুর ২টায় সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হবে। তখন সেনাবাহিনীও তার স্বাভাবিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দায়িত্বে, অর্থাৎ সেনা নিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেই দিকেই তাকিয়ে আছি।”

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান আরও বলেন, “সরকার যে রূপরেখা প্রণয়ন করেছে, তার আলোকে সেনাবাহিনীও আশা করছে সেই কাঠামো অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে, সেটিকে কেন্দ্র করেই আমাদের চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের মূল দায়িত্ব শান্তিকালীন সময়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমরা সবসময় বলি—‘We train as we fight’। গত ১৫ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। যদি নির্বাচনের আগে বা কিছু সময় পর পর্যন্তও বাইরে থাকতে হয়, তাহলে সেটি আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলবে। তবে আমরা তা সামলে নিচ্ছি। গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনী যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে, তা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দেশের ইতিহাসে এমন প্রতিকূল অবস্থা আমরা খুব কমই মোকাবিলা করেছি। তবুও আমাদের সদস্যরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সেনাবাহিনীকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই—সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য তাদের প্রধান এবং সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত। সেনাবাহিনীতে কোনো বিভক্তি নেই; বরং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃঢ়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে আহ্বান জানাবো, এসব অপপ্রচার উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সেনাবাহিনী সবসময় সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমরা তা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছি—ভবিষ্যতেও করবো।”

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সেনাবাহিনী দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দেশের সংবিধান ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনী জনগণকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সেনাসদরে ব্রিফিং: সেনাবাহিনীর প্রত্যাশা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন

Update Time : ০৪:৪২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা দেশের মতোই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। বুধবার দুপুর ২টায় সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হবে। তখন সেনাবাহিনীও তার স্বাভাবিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দায়িত্বে, অর্থাৎ সেনা নিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেই দিকেই তাকিয়ে আছি।”

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান আরও বলেন, “সরকার যে রূপরেখা প্রণয়ন করেছে, তার আলোকে সেনাবাহিনীও আশা করছে সেই কাঠামো অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে, সেটিকে কেন্দ্র করেই আমাদের চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের মূল দায়িত্ব শান্তিকালীন সময়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমরা সবসময় বলি—‘We train as we fight’। গত ১৫ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। যদি নির্বাচনের আগে বা কিছু সময় পর পর্যন্তও বাইরে থাকতে হয়, তাহলে সেটি আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলবে। তবে আমরা তা সামলে নিচ্ছি। গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনী যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে, তা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দেশের ইতিহাসে এমন প্রতিকূল অবস্থা আমরা খুব কমই মোকাবিলা করেছি। তবুও আমাদের সদস্যরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সেনাবাহিনীকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই—সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য তাদের প্রধান এবং সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত। সেনাবাহিনীতে কোনো বিভক্তি নেই; বরং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃঢ়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে আহ্বান জানাবো, এসব অপপ্রচার উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সেনাবাহিনী সবসময় সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমরা তা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছি—ভবিষ্যতেও করবো।”

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সেনাবাহিনী দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দেশের সংবিধান ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনী জনগণকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকবে।