প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন ব্যাখ্যা
- Update Time : ১১:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫০ Time View

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সরকারি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, এবং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ২ হাজার ৫০০ ক্লাস্টারে শরীরচর্চা ও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সচিব কমিটির পর্যালোচনার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, এভাবে সীমিত পরিসরে নিয়োগ দিলে তা কার্যকর হবে না এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাস্তব কোনো সুফল বয়ে আনবে না।
সচিব কমিটির মূল্যায়নে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়োগ কাঠামো অনুসারে একজন শিক্ষককে গড়ে ২০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হতো, যা বাস্তবে সম্ভব নয় এবং এতে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার আরও জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাতিল মানে সহপাঠ কার্যক্রমের গুরুত্বকে খাটো করা নয়। বরং, পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন শেষে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য সহপাঠ কার্যক্রম অপরিহার্য। তবে নতুন কোনো পদ সৃষ্টি বা নিয়োগ উদ্যোগ গ্রহণের আগে তা অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই ব্যাখ্যা নীতি-নির্ধারণে বাস্তবতার প্রতিফলন হলেও দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে বিবেচনা করা উচিত, যাতে শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশে ভারসাম্য আসে।










