টিকটকে প্রেম, বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
- Update Time : ০৮:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬৭ Time View

টিকটকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে জিল্লুর রহমান (৩৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৫ এর একটি দল তাকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত জিল্লুর রহমানের বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলার বামুজা গ্রামে। র্যাব জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে প্রায় তিন মাস আগে এক তরুণীর সঙ্গে জিল্লুরের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরে জিল্লুর ওই তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দেখা করার প্রস্তাব দেন।
র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর রাতে তরুণী ট্রেনে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে জিল্লুর তাকে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরান। পরদিন (১০ অক্টোবর) দুপুরে তিনি দাশুড়িয়া বাজার এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিয়ের বিষয়ে তরুণী পরবর্তীতে চাপ দিলে জিল্লুর নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে একদিন কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই তরুণীর মোবাইল ফোন ও ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। হতাশ ও প্রতারিত হয়ে তরুণী নিজেই ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব-৫ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিল্লুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় র্যাব-৫ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। তাই তরুণ-তরুণীদের অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার এখন দেশের তরুণ সমাজের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে টিকটক, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ন্যায়বিচারের আশায় আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। র্যাব জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তের মোবাইল ও অনলাইন যোগাযোগের নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যায়।










