চট্টগ্রামে গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, এলাকায় উত্তেজনা
- Update Time : ০৮:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১০৬ Time View

চট্টগ্রামে নির্বাচনি গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপি নেতা ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পাঁচলাইশের হামজারবাগ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন এরশাদ উল্লাহ। হঠাৎ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়লে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি। তার অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর আকস্মিকভাবে গুলি চালানো হয়। এ সময় আরও অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সরওয়ার বাবলা নামে একজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন গুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমাদের টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। আমি নিজে হাসপাতালে যাচ্ছি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে।”
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, “এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পেয়েছি। আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতা এবং বর্তমানে দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–পাঁচলাইশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
ঘটনার পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা, যার উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রার্থীর মনোবল ভেঙে দেওয়া। তবে পুলিশ এখনো হামলাকারীদের পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামজারবাগ ও আশপাশের এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহল বলছে, নির্বাচনি প্রচারণার এমন সহিংসতা দেশের নির্বাচনি পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছে।
এই হামলার পর বিএনপির পক্ষ থেকে রাতেই এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয় এবং দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করছে। তারা এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।










