সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলে মায়ের হাত ছেড়ে দৌড় দিতেই মাইক্রোবাসের চাপায় প্রাণ গেল শিশুর তুহিনের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:১৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৮ Time View

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা’য়ের চোখের সামনে প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ছয় বছরের শিশু তুহিন ইসলাম। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ঘাটাইল-সাগরদিঘী আঞ্চলিক সড়কের দেওপাড়া ইউনিয়নের মাকড়াই কুমারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন স্থানীয় ভ্যানচালক মো. শামীম মিয়ার ছেলে এবং মাকড়াই মদিনা তুল উলুম মাদ্রাসার প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বয়স মাত্র ছয় বছর হলেও সে নিয়মিতভাবে মাদ্রাসায় যেত এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটি শেষে তুহিন তার মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল। পথে মাকড়াই ব্রিজের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ করেই সে মায়ের হাত ছেড়ে সামনে দৌড় দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগামী একটি মাইক্রোবাস এসে তাকে চাপা দেয়।

তুহিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল খান বলেন, “এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী রাস্তার সেই অংশে স্পিডব্রেকার স্থাপন ও যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণের দাবিও জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই রাস্তায় প্রায়ই দ্রুতগামী গাড়ির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আরও শিশুর প্রাণ যেতে পারে।”

শোকের ছায়া পরিবারের কান্না

তুহিনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অসহায় মা নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। পরিবারটি নিম্নবিত্ত; ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান বাবা শামীম মিয়া। প্রতিবেশীরা জানান, “তুহিন ছিল খুব শান্ত ও হাসিখুশি ছেলে। প্রতিদিন মায়ের হাত ধরে মাদ্রাসায় যেত। আজ সেই পথেই ওর শেষ যাত্রা হলো।”

সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নে আবারও আলোচনায় ঘাটাইল

এই দুর্ঘটনা ঘাটাইল অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের অসচেতনতা, রাস্তার পাশে শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব—এই সব কারণেই একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে।

তুহিনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বার্তা—সড়কে এক মুহূর্তের অসচেতনতায় কত অমূল্য প্রাণ ঝরে যায়। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের দাবি, এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঘাটাইলে মায়ের হাত ছেড়ে দৌড় দিতেই মাইক্রোবাসের চাপায় প্রাণ গেল শিশুর তুহিনের

Update Time : ০৫:১৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা’য়ের চোখের সামনে প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ছয় বছরের শিশু তুহিন ইসলাম। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ঘাটাইল-সাগরদিঘী আঞ্চলিক সড়কের দেওপাড়া ইউনিয়নের মাকড়াই কুমারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন স্থানীয় ভ্যানচালক মো. শামীম মিয়ার ছেলে এবং মাকড়াই মদিনা তুল উলুম মাদ্রাসার প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বয়স মাত্র ছয় বছর হলেও সে নিয়মিতভাবে মাদ্রাসায় যেত এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটি শেষে তুহিন তার মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল। পথে মাকড়াই ব্রিজের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ করেই সে মায়ের হাত ছেড়ে সামনে দৌড় দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগামী একটি মাইক্রোবাস এসে তাকে চাপা দেয়।

তুহিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল খান বলেন, “এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী রাস্তার সেই অংশে স্পিডব্রেকার স্থাপন ও যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণের দাবিও জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই রাস্তায় প্রায়ই দ্রুতগামী গাড়ির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আরও শিশুর প্রাণ যেতে পারে।”

শোকের ছায়া পরিবারের কান্না

তুহিনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অসহায় মা নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। পরিবারটি নিম্নবিত্ত; ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান বাবা শামীম মিয়া। প্রতিবেশীরা জানান, “তুহিন ছিল খুব শান্ত ও হাসিখুশি ছেলে। প্রতিদিন মায়ের হাত ধরে মাদ্রাসায় যেত। আজ সেই পথেই ওর শেষ যাত্রা হলো।”

সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নে আবারও আলোচনায় ঘাটাইল

এই দুর্ঘটনা ঘাটাইল অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের অসচেতনতা, রাস্তার পাশে শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব—এই সব কারণেই একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে।

তুহিনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক বেদনাদায়ক বার্তা—সড়কে এক মুহূর্তের অসচেতনতায় কত অমূল্য প্রাণ ঝরে যায়। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের দাবি, এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।