গাজীপুরে ৩৭টি রুগ্ন ঘোড়া ও ৫ মণ ঘোড়ার মাংস উদ্ধার: গোপন মাংস ব্যবসার চাঞ্চল্যকর উন্মোচন
- Update Time : ০৫:১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৩ Time View

গাজীপুর নগরের হায়দরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক একটি গোপন কার্যক্রমের সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে পরিচালিত এক অভিযানে ৩৭টি রুগ্ন ঘোড়া এবং প্রায় ৫ মণ ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানটি পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহম্মেদ। অভিযানে সহায়তা করেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা এবং র্যাবের একটি টিম।
গোপন ব্যবসার হদিস
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হায়দরাবাদ এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে প্রায় এক বছর ধরে গোপনে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হচ্ছিল। স্থানীয় শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই নিষিদ্ধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বহু আগেই ঘোড়ার মাংস বিক্রি ও ভক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, কারণ এটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থলে যায়। ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, সেখানে ৩৭টি অসুস্থ ও রুগ্ন ঘোড়া এবং প্রায় ৫ মণ মাংস সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এই ঘোড়াগুলো জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যেই এখানে আনা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা না গেলেও তদন্ত চলছে। উদ্ধার করা ঘোড়াগুলো এবং মাংস স্থানীয় প্রশাসনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এগুলো জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
ঘোড়ার মাংসের ক্ষতিকর দিক
গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. হারুন রোমান বলেন,
“উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলোর অধিকাংশই রুগ্ন ও অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের শরীরে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিন পাওয়া গেছে। এই ধরনের মাংস মানবদেহে প্রবেশ করলে মারাত্মক খাদ্যবাহিত রোগ, লিভার ও কিডনি বিকলসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘোড়ার মাংস মানবভোজ্য নয়। এটি শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই সবাইকে এই ধরনের মাংস কেনা ও খাওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ব্যবস্থা
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় রাতে সন্দেহজনকভাবে মাংস পরিবহন করা হতো, তবে কেউ সাহস করে অভিযোগ করতে পারেননি।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনায় অবৈধ প্রাণিজ মাংস ব্যবসা দমন আইনে মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন এলাকাটিতে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংস বিক্রি ও খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ, কারণ এটি শরীরের জন্য অনিরাপদ এবং ইসলামি শরিয়াহতেও হারাম হিসেবে বিবেচিত। প্রাণিসম্পদ বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘোড়া, কুকুর ও বন্যপ্রাণীর মাংস বিক্রি বন্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে।
গাজীপুরের এই অভিযান শুধু অবৈধ ব্যবসার চিত্রই নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










