সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক হাজার ৮৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তের অনুমোদন দিল সরকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২৯ Time View

দীর্ঘ আন্দোলন, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার পর অবশেষে সুখবর পেলেন দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। অন্তর্বর্তী সরকার এক হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে শর্তসাপেক্ষে এমপিওভুক্ত (Monthly Pay Order) করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই এই সংক্রান্ত ফাইলে চূড়ান্ত সই করেছেন, যা আন্দোলনরত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এখন প্রায় সম্পন্ন। তবে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলেই আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাদ্রাসা অনুবিভাগ) এস এম মাসুদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, “স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিও ফাইলে প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা দেশে ফিরলেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করব। এতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে এবং শিক্ষক সমাজ স্বস্তি পাবে।”

এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নীতিমালা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলেও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মাঠে নামেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ২২ দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট মানববন্ধন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।

শিক্ষকরা শুধু এমপিও নয়, বরং অনুদানপ্রাপ্ত অনুদানবিহীন সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ধাপ হিসেবে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ বছরের পর বছর তারা বঞ্চিত থেকেছেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে।

আন্দোলনরত এক শিক্ষক বলেন, “আমরা অনেক বছর ধরে বেতনভাতা ও স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করছি। আজকের এই অনুমোদন আমাদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। সরকার আমাদের কথা শুনেছে—এটাই আমাদের বহুদিনের অর্জন।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। একইসঙ্গে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তা ফিরবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অসন্তোষ ও আন্দোলনেরও অবসান ঘটবে।

একজন নীতিনির্ধারক মন্তব্য করেন, “এই এমপিওভুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং ইবতেদায়ি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সরকারের আস্থার প্রতিফলন। এটি শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। ফলে দেশের ১,০৮৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলমান এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক হাজার ৮৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তের অনুমোদন দিল সরকার

Update Time : ১১:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ আন্দোলন, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার পর অবশেষে সুখবর পেলেন দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। অন্তর্বর্তী সরকার এক হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে শর্তসাপেক্ষে এমপিওভুক্ত (Monthly Pay Order) করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই এই সংক্রান্ত ফাইলে চূড়ান্ত সই করেছেন, যা আন্দোলনরত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এখন প্রায় সম্পন্ন। তবে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলেই আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাদ্রাসা অনুবিভাগ) এস এম মাসুদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, “স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিও ফাইলে প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা দেশে ফিরলেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করব। এতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে এবং শিক্ষক সমাজ স্বস্তি পাবে।”

এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নীতিমালা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলেও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মাঠে নামেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ২২ দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট মানববন্ধন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।

শিক্ষকরা শুধু এমপিও নয়, বরং অনুদানপ্রাপ্ত অনুদানবিহীন সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ধাপ হিসেবে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ বছরের পর বছর তারা বঞ্চিত থেকেছেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে।

আন্দোলনরত এক শিক্ষক বলেন, “আমরা অনেক বছর ধরে বেতনভাতা ও স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করছি। আজকের এই অনুমোদন আমাদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। সরকার আমাদের কথা শুনেছে—এটাই আমাদের বহুদিনের অর্জন।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। একইসঙ্গে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তা ফিরবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অসন্তোষ ও আন্দোলনেরও অবসান ঘটবে।

একজন নীতিনির্ধারক মন্তব্য করেন, “এই এমপিওভুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং ইবতেদায়ি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সরকারের আস্থার প্রতিফলন। এটি শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। ফলে দেশের ১,০৮৯টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলমান এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।