মালদ্বীপে জেন জি থেকে সব প্রজন্মের জন্য ধূমপান নিষিদ্ধ: জনস্বাস্থ্যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
- Update Time : ১২:১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৬৩ Time View

মালদ্বীপে ইতিহাসের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—দেশটিতে জন্মগ্রহণ করা জেনারেশন জেড (Gen Z) প্রজন্ম থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের সব প্রজন্মের জন্য ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০০৭ সালের জানুয়ারির পর যারা জন্মগ্রহণ করেছে এবং করবে, তারা কেউই জীবনের কোনো পর্যায়ে তামাকজাত দ্রব্য কিনতে, বিক্রি করতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা শুধু প্রচলিত সিগারেট নয়, সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য, যেমন—বিড়ি, জর্দা, খৈনি, সিগার ও এমনকি ই-সিগারেট ও ভ্যাপ—সবকিছুর ওপরই প্রযোজ্য। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনকে দেশটির সরকার “ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম” গড়ার এক সাহসী উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কঠোর বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান
নতুন আইনে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনো বিক্রেতা অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নিষিদ্ধ প্রজন্মের কারও কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করে, তাহলে তাকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩.৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে ২১ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তি তামাক সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না।
এছাড়া, সব ধরনের তামাক বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মালদ্বীপ সরকার জানিয়েছে, কোনো গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ক্রীড়া ইভেন্টে তামাক কোম্পানির প্রচারণা বা স্পন্সরশিপ পাওয়া যাবে না।
পর্যটকরাও এর আওতায়
পর্যটননির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও মালদ্বীপ সরকার আইনটি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করেছে। দেশে আগত পর্যটকরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। অর্থাৎ, পর্যটকরা মালদ্বীপে অবস্থানকালে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে বা তামাকজাত দ্রব্য বহন করতে পারবেন না।
সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি: সুস্থ ভবিষ্যতের পথে
মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি সাজিদা মোহাম্মদ এ উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন,
“এই সিদ্ধান্ত তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল এবং ভবিষ্যতপ্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মাদকচক্র ভাঙবে, রোগ প্রতিরোধ করবে এবং তরুণদের জন্য আরও সুস্থ, শক্তিশালী ও উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”
মালদ্বীপের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশটিতে অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ তামাক সেবন ও পরোক্ষ ধূমপান। এ কারণেই সরকার ধূমপানবিরোধী এক দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
প্রেক্ষাপট: আগের পদক্ষেপগুলো
বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু গত বছরই জাতীয় ধূমপানবিরোধী কর্মসূচি শুরু করেন। সেই সময় ভ্যাপ ও ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়, এবং সিগারেটের ওপর আমদানি শুল্ক ও কর দ্বিগুণ বাড়ানো হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নতুন আইনটি মালদ্বীপকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম “ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম” গঠনের পথে নিয়ে যাবে এবং তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নাগরিকদের রক্ষা করবে।
জনস্বাস্থ্যে বৈপ্লবিক উদ্যোগ
বিশ্বব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণে এমন কঠোর পদক্ষেপ খুব কম দেশই নিয়েছে। মালদ্বীপের এই আইন নিউজিল্যান্ডের আগের “স্মোক-ফ্রি জেনারেশন” নীতির আদলে তৈরি, যা ২০২৩ সালে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু মালদ্বীপ সেই ধারনাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে—যা অন্য দেশগুলোকেও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অনুপ্রাণিত করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান











