বিদেশে ‘সরকার পরিবর্তন বা জাতি গঠনের’ মার্কিন নীতির যুগ শেষ: তুলসী গ্যাবার্ড
- Update Time : ০৮:৫১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৩৮ Time View

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘বিদেশি সরকার পরিবর্তন’ ও ‘জাতি গঠনের’ নীতি এখন অতীত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকদের সঙ্গে এক সংলাপে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনের পুরোনো পররাষ্ট্রনীতি—যেখানে অন্য দেশের শাসনব্যবস্থা বদলানো এবং নিজেদের গণতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো—তার যুগ শেষ হয়ে গেছে।”
মানামা সংলাপে বক্তব্য
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS) আয়োজিত ‘মানামা ডায়ালগ’-এ বক্তব্য রাখেন তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি বলেন, “বিগত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি একটি অন্তহীন চক্রে আটকে ছিল—একটি সরকার পতন ঘটানো, অন্যের ওপর আমাদের মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা, এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়া যা আমরা খুব কমই বুঝতাম, এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধুদের চেয়ে শত্রু বেশি তৈরি করা।”
তুলসী আরও যোগ করেন, “এই নীতির ফল হয়েছে ভয়াবহ—অগণিত প্রাণহানি, ট্রিলিয়ন ডলার অপচয়, এবং এমন এক বিশৃঙ্খল বিশ্ব, যেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপই অনেক সময় নতুন নিরাপত্তা হুমকির জন্ম দিয়েছে।”
ট্রাম্পের নীতির প্রতিফলন
বিশ্লেষকদের মতে, তুলসীর এই মন্তব্য আসলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক কৌশলের একটি প্রতিফলন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে যে “নেশন বিল্ডিং” নীতিতে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য তালেবানদের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে বাস্তবায়িত হলেও বিশৃঙ্খল অবস্থায় শেষ হয়। একইসঙ্গে, ট্রাম্প সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা আহমেদ আল-শারাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান, যিনি একসময় ইরাকে মার্কিন বাহিনীর বন্দী ছিলেন—যা মার্কিন কৌশলের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
দক্ষিণ আমেরিকায় নীরবতা
তবে তুলসী গ্যাবার্ড দক্ষিণ আমেরিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন গোপন অভিযান, সিআইএ কার্যক্রম, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন কিংবা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের সম্ভাবনা নিয়ে যে জল্পনা চলছে—সে বিষয়ে তিনি নীরব থাকেন।
ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ মহল বলছে, দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম এখনো “রেজিম চেঞ্জ” ধাঁচেরই, যদিও গ্যাবার্ডের বক্তব্যে সেটি স্বীকার করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মন্তব্য
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তুলসীর বক্তব্য মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সিরিয়া-ইরাক নীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা—এসবই “অন্য দেশের ভাগ্য নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা নেওয়ার দিন শেষ” হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ধরে রাখতে কেবল নীতি বদলাচ্ছে, লক্ষ্য নয়। “শাসন পরিবর্তন নয়, বরং প্রভাব বিস্তার এখন মার্কিন কৌশলের নতুন রূপ,” বলে মন্তব্য করেন এক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্লেষক।










