সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঠিক বালিশ নির্বাচনই ভালো ঘুমের চাবিকাঠি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২৩৭ Time View

felow

felow
 প্রতীকী | ছবি- গার্ডিয়ান (ইলাস্ট্রেশন)

ভালো ঘুম মানে শুধু চোখ বন্ধ করা নয়—বরং শরীর ও মনের সম্পূর্ণ বিশ্রাম। ঘুমের মান খারাপ হলে পরদিন ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ হতে পারে ভুল বালিশ নির্বাচন। সঠিক উচ্চতা বা বালিশের গঠন ঠিক না হলে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

কেন সঠিক বালিশ এত গুরুত্বপূর্ণ

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ড. গীত পল বলেন, “একটি আদর্শ বালিশের কাজ হলো মাথা ও ঘাড়কে মেরুদণ্ডের সঙ্গে সোজা রেখায় রাখা।” কিন্তু বাস্তবে অনেকেই বালিশ বেছে নেন শুধু নরম বা শক্ততার ভিত্তিতে—যা ঘাড়ে অস্বস্তি ও মেরুদণ্ডের বক্রতা বাড়িয়ে দেয়।

ঘাড় ও মাথা যদি সঠিক অবস্থানে না থাকে, তবে মাংসপেশিতে টান লাগে, রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়, এবং সকালে ঘুম ভাঙলে ব্যথা বা অবসাদ অনুভূত হয়। তাই বালিশ বাছাইয়ের আগে নিজের ঘুমের ভঙ্গি বুঝে নেয়া জরুরি।

ঘুমের ভঙ্গি অনুযায়ী সঠিক বালিশ নির্বাচন

১. চিৎ হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে:
চিৎ হয়ে শোয়া ব্যক্তিদের জন্য মাঝারি উচ্চতার নরম বালিশ সবচেয়ে উপযুক্ত। এতে ঘাড় সামনের দিকে না ঝোঁকে এবং মেরুদণ্ড সোজা থাকে। চিবুক ও বুকে অন্তত চার আঙুলের ফাঁকা রাখতে হবে।
এছাড়া কোমরের নিচের চাপ কমাতে হাঁটুর নিচে একটি ছোট বালিশ বা রোল করা তোয়ালে রাখতে পারেন। এটি কোমরের প্রাকৃতিক বাঁক ধরে রাখে ও পিঠের ব্যথা প্রতিরোধ করে।

২. পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে:
পাশ ফিরে ঘুমালে মাথা ও ঘাড় যেন মেরুদণ্ডের সমান্তরালে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য মাঝারি শক্ত বালিশ ব্যবহার করা ভালো। এভাবে ঘাড়ে অস্বস্তি হয় না এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে।

/> এছাড়া দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ রাখলে কোমর ও মেরুদণ্ডের ভারসাম্য বজায় থাকে। এটি রাতে ঘুমের সময় শরীরের টান ও জ্বালাপোড়া কমায়।

৩. উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে:
বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপুড় হয়ে ঘুমানো শরীরের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ভঙ্গি। এতে ঘাড় ও পিঠে অতিরিক্ত টান পড়ে, ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হয়।
তবুও যদি অভ্যাস ছাড়তে না পারেন, তাহলে খুব পাতলা বালিশ ব্যবহার করুন। মাথা ও পেটের নিচে বালিশ রাখলে মেরুদণ্ডে চাপ কিছুটা কম পড়ে।

কতদিন পর বালিশ বদলানো উচিত

একই বালিশ বছরের পর বছর ব্যবহার করা ঠিক নয়। সময়ের সঙ্গে বালিশে ধুলো, ঘাম, ব্যাকটেরিয়া জমে যায় এবং এর স্থিতিস্থাপকতাও নষ্ট হয়। সাধারণত প্রতি থেকে বছর অন্তর বালিশ পরিবর্তন করা উচিত।

বালিশ বদলানোর প্রয়োজন আছে কিনা তা যাচাই করতে পারেন সহজ এক উপায়ে—
বালিশটি মাঝখান থেকে ভাঁজ করে হাত ছেড়ে দিন। যদি আগের মতো সোজা হয়ে যায়, তাহলে এখনো ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু যদি ভাঁজ অবস্থাতেই থেকে যায়, তবে নতুন বালিশ নেওয়ার সময় এসেছে।

শুধু বালিশ নয়, ঘুমের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই বালিশ পাল্টান, কিন্তু ঘুমের ভঙ্গি ঠিক করেন না। ফলে ঘাড় ও পিঠের ব্যথা দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমানোর সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং ঘুমানোর জায়গা বা ম্যাট্রেসের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

যদি ঘাড় বা কোমরের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু বালিশ নয়—পুরো ঘুমের অভ্যাস, বিছানা ঘুমের পরিবেশ পর্যালোচনা করা দরকার।

শেষ কথা

ভালো ঘুম মানে শুধু আরাম নয়, এটি শারীরিক ও মানসিক পুনরুজ্জীবনের অন্যতম শর্ত। তাই ঘুমের মান উন্নত করতে নিজের জন্য সঠিক বালিশ, উপযুক্ত ঘুমের ভঙ্গি এবং আরামদায়ক বিছানা বেছে নেওয়া জরুরি।

ভালো বালিশ—ভালো ঘুম, আর ভালো ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য।

(সূত্র: The Guardian, Washington University Sleep Study, Healthline)

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সঠিক বালিশ নির্বাচনই ভালো ঘুমের চাবিকাঠি

Update Time : ০৬:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
felow
 প্রতীকী | ছবি- গার্ডিয়ান (ইলাস্ট্রেশন)

ভালো ঘুম মানে শুধু চোখ বন্ধ করা নয়—বরং শরীর ও মনের সম্পূর্ণ বিশ্রাম। ঘুমের মান খারাপ হলে পরদিন ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ব্যাঘাতের অন্যতম কারণ হতে পারে ভুল বালিশ নির্বাচন। সঠিক উচ্চতা বা বালিশের গঠন ঠিক না হলে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

কেন সঠিক বালিশ এত গুরুত্বপূর্ণ

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ড. গীত পল বলেন, “একটি আদর্শ বালিশের কাজ হলো মাথা ও ঘাড়কে মেরুদণ্ডের সঙ্গে সোজা রেখায় রাখা।” কিন্তু বাস্তবে অনেকেই বালিশ বেছে নেন শুধু নরম বা শক্ততার ভিত্তিতে—যা ঘাড়ে অস্বস্তি ও মেরুদণ্ডের বক্রতা বাড়িয়ে দেয়।

ঘাড় ও মাথা যদি সঠিক অবস্থানে না থাকে, তবে মাংসপেশিতে টান লাগে, রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়, এবং সকালে ঘুম ভাঙলে ব্যথা বা অবসাদ অনুভূত হয়। তাই বালিশ বাছাইয়ের আগে নিজের ঘুমের ভঙ্গি বুঝে নেয়া জরুরি।

ঘুমের ভঙ্গি অনুযায়ী সঠিক বালিশ নির্বাচন

১. চিৎ হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে:
চিৎ হয়ে শোয়া ব্যক্তিদের জন্য মাঝারি উচ্চতার নরম বালিশ সবচেয়ে উপযুক্ত। এতে ঘাড় সামনের দিকে না ঝোঁকে এবং মেরুদণ্ড সোজা থাকে। চিবুক ও বুকে অন্তত চার আঙুলের ফাঁকা রাখতে হবে।
এছাড়া কোমরের নিচের চাপ কমাতে হাঁটুর নিচে একটি ছোট বালিশ বা রোল করা তোয়ালে রাখতে পারেন। এটি কোমরের প্রাকৃতিক বাঁক ধরে রাখে ও পিঠের ব্যথা প্রতিরোধ করে।

২. পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে:
পাশ ফিরে ঘুমালে মাথা ও ঘাড় যেন মেরুদণ্ডের সমান্তরালে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য মাঝারি শক্ত বালিশ ব্যবহার করা ভালো। এভাবে ঘাড়ে অস্বস্তি হয় না এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে।

/> এছাড়া দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ রাখলে কোমর ও মেরুদণ্ডের ভারসাম্য বজায় থাকে। এটি রাতে ঘুমের সময় শরীরের টান ও জ্বালাপোড়া কমায়।

৩. উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে:
বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপুড় হয়ে ঘুমানো শরীরের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ভঙ্গি। এতে ঘাড় ও পিঠে অতিরিক্ত টান পড়ে, ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হয়।
তবুও যদি অভ্যাস ছাড়তে না পারেন, তাহলে খুব পাতলা বালিশ ব্যবহার করুন। মাথা ও পেটের নিচে বালিশ রাখলে মেরুদণ্ডে চাপ কিছুটা কম পড়ে।

কতদিন পর বালিশ বদলানো উচিত

একই বালিশ বছরের পর বছর ব্যবহার করা ঠিক নয়। সময়ের সঙ্গে বালিশে ধুলো, ঘাম, ব্যাকটেরিয়া জমে যায় এবং এর স্থিতিস্থাপকতাও নষ্ট হয়। সাধারণত প্রতি থেকে বছর অন্তর বালিশ পরিবর্তন করা উচিত।

বালিশ বদলানোর প্রয়োজন আছে কিনা তা যাচাই করতে পারেন সহজ এক উপায়ে—
বালিশটি মাঝখান থেকে ভাঁজ করে হাত ছেড়ে দিন। যদি আগের মতো সোজা হয়ে যায়, তাহলে এখনো ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু যদি ভাঁজ অবস্থাতেই থেকে যায়, তবে নতুন বালিশ নেওয়ার সময় এসেছে।

শুধু বালিশ নয়, ঘুমের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই বালিশ পাল্টান, কিন্তু ঘুমের ভঙ্গি ঠিক করেন না। ফলে ঘাড় ও পিঠের ব্যথা দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমানোর সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং ঘুমানোর জায়গা বা ম্যাট্রেসের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

যদি ঘাড় বা কোমরের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু বালিশ নয়—পুরো ঘুমের অভ্যাস, বিছানা ঘুমের পরিবেশ পর্যালোচনা করা দরকার।

শেষ কথা

ভালো ঘুম মানে শুধু আরাম নয়, এটি শারীরিক ও মানসিক পুনরুজ্জীবনের অন্যতম শর্ত। তাই ঘুমের মান উন্নত করতে নিজের জন্য সঠিক বালিশ, উপযুক্ত ঘুমের ভঙ্গি এবং আরামদায়ক বিছানা বেছে নেওয়া জরুরি।

ভালো বালিশ—ভালো ঘুম, আর ভালো ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য।

(সূত্র: The Guardian, Washington University Sleep Study, Healthline)