পাঁচ দফা দাবিতে সারাদেশে আট দলের বিক্ষোভ আজ
- Update Time : ০৮:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / ১১৮ Time View

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবিতে আজ সারাদেশের জেলা সদরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে দেশের সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল। ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর আগামী নভেম্বরে গণভোট আয়োজন’সহ পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পূর্বঘোষিত যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ একযোগে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো—
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং ডেভলপমেন্ট পার্টি।
দলগুলো জানিয়েছে, জুলাই সনদে উল্লিখিত রাজনৈতিক সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। তারা বলছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জবাবদিহিতা ও জনগণের ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।
পাঁচ দফা দাবি বিস্তারিতভাবে:
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি ও নভেম্বরেই গণভোট আয়োজন।
জুলাই সনদের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের যে কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দ্রুত সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করতে হবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি চালু করা।
উভয় কক্ষ তথা উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে দলীয় ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টনের এই ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে দলগুলো। তাদের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে জনগণের প্রকৃত ভোট প্রতিফলিত হবে এবং ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা, নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ প্রদান এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
আট দল বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
৫️⃣ স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
→ তাদের অভিযোগ, এসব দল স্বৈরাচারী শাসনের অংশ হয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাই দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে শুদ্ধ করতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে জোটটি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
জুলাই সনদকে ঘিরে এই আট দলের আন্দোলন ক্রমেই গতি পাচ্ছে। তারা বলছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও দলীয় স্বার্থের সংঘাত। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ সাংবিধানিক সংস্কার ও জনগণের মতামতনির্ভর সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতারা ‘গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দমনমূলক শাসনের অবসান’-এর আহ্বান জানাবেন বলে জানা গেছে।
দলগুলোর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির পর তারা ঢাকায় মহাসমাবেশ, জেলা পর্যায়ে দীর্ঘ মিছিল এবং গণস্বাক্ষর অভিযানসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী ধারার এই আট দলের যৌথ অবস্থান ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে পারে।











