বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানাল আইএমএফ
- Update Time : ০৯:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৫৫ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিশেষভাবে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি কেবল দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিতই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক আস্থার পুনরুদ্ধারের প্রতিফলন।
আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক থমাস হেলব্লিং বলেন, রিজার্ভের সঞ্চয়কে আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির একটি কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি দেশের পেমেন্ট ভারসাম্যের (Balance of Payments) দুর্বলতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বাংলাদেশের এই অর্জনকে প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধির উদ্যোগ সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি দেশের মুদ্রানীতিকে আরও দৃঢ় করবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।”
গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে আয়োজিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে থমাস হেলব্লিং এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে যে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক—দুই প্রতিষ্ঠানই আইএমএফের সংস্কারমূলক কর্মসূচির সঙ্গে কার্যকরভাবে সমন্বয় সাধন করছে।
তিনি আরও জানান, ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তির আওতায় আইএমএফের পঞ্চম পর্যালোচনা মিশন এই মাসেই বাংলাদেশ সফর করবে। মিশনটি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করবে। তিনি বলেন, “এই আলোচনাগুলোতে আমরা রিজার্ভ নীতির কার্যকারিতা, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বাস্তবতা যাচাই করব।”
আইএমএফ আরও জানিয়েছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের ঘোষিত বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও তাদের মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংস্থাটি মনে করছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ কমবে, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও কিছুটা হ্রাস পাবে।
আইএমএফের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি কেবল ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে দেশের ক্রেডিট রেটিং উন্নত করতেও সহায়তা করে।
সামগ্রিকভাবে আইএমএফের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রিজার্ভ ধরে রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি বিনিময় হার ব্যবস্থাপনাকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও বাজারনির্ভর রাখতে হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে আইএমএফের প্রশংসা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় প্রেরণা—যা ভবিষ্যতের আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার পথে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।











