সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ লাখ টাকায় খুন হন সালমান শাহ!

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৮২ Time View

1758254124

1758254124

১২ লাখ টাকায় খুন হন সালমান শাহ! তিন দশক পর রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত মৃত্যু

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন মৃত্যু আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি। নব্বইয়ের দশকের সুপারস্টার সালমান শাহ, যিনি তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথমে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মহল ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে রায় দেয়, কিন্তু সালমানের পরিবার ও ভক্তরা শুরু থেকেই বলে আসছেন—এটি আত্মহত্যা নয়, একটি পরিকল্পিত হত্যা

রহস্যময় মৃত্যু থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর

সালমান শাহর মৃত্যুর পরপরই শুরু হয় বিতর্ক। স্ত্রী সামিরা হক দাবি করেন, সালমান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সালমানের মা ও মামা শুরু থেকেই অভিযোগ করেন, “আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।” তারা আদালতে বারবার তদন্তের আবেদন করেন।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর, আদালত অবশেষে সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দেন। এর ২৪ ঘণ্টা পরেই সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এটি বাংলাদেশের বিনোদন জগতে এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দেয়।

রেজভীর স্বীকারোক্তি: ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে খুন

এই মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভী কর্তৃক আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি পুনরায় সামনে আসায়। সেখানে রেজভী স্বীকার করেন,

“আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছিল।”

রেজভীর জবানবন্দিতে উঠে আসে এক ভয়াবহ তথ্য—সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল ১২ লাখ টাকার এক চুক্তির বিনিময়ে। এই চুক্তির পেছনে ছিলেন সালমানের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, এবং পরিকল্পনায় ছিলেন সামিরা হক, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুকজাভেদসহ আরো কয়েকজন।

রেজভী জানান, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের একটি বারে রাতে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। প্রথমে ২ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়, পরে কাজের আগে ৬ লাখ ও শেষে ৬ লাখ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেখানে প্লাস্টিকের

দড়ি, ইনজেকশন, ক্লোরোফর্ম, রিভলভার প্রস্তুত রাখা হয়।

সেই রাতের ভয়াবহ বিবরণ

রেজভীর বয়ানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর বিবরণ। তিনি বলেন,
রাত আড়াইটার দিকে তারা সালমান শাহর ইস্কাটনের বাসায় যান। তখন সালমান ঘুমিয়ে ছিলেন। সামিরা ও তার মা উপস্থিত ছিলেন।
সামিরা প্রথমে সালমানকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর সালমানের জ্ঞান ফিরে আসে। তখন সালমান ধস্তাধস্তি শুরু করলে আজিজ ভাই নামে এক ব্যক্তি তাকে ইনজেকশন দিতে বলেন। সালমানের শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগের পর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
এরপর পরিকল্পনামতো তাকে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।

রেজভী বলেন,

“আমরা কাজ শেষ করেছি। সকালে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কেউ বুঝবে না এটি খুন, সবাই বলবে সালমান আত্মহত্যা করেছে।”

বছরের পর বছর তদন্তে গড়িমসি

ঘটনার পর সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিবারই ফলাফল একই—“আত্মহত্যা”। সালমানের মা ও ভক্তরা বারবার অভিযোগ করেছেন, তদন্তগুলো প্রভাবিত ছিল, আসল সত্য গোপন করা হয়েছে।
২০১৬ সালে সিআইডি তদন্তেও বলা হয় সালমান আত্মহত্যা করেছেন, যা পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। তারা বলেন, “যে ছেলেটি সাফল্যের চূড়ায়, কোটি মানুষের প্রিয়, সে কেন আত্মহত্যা করবে?”

আদালতের নির্দেশে নতুন তদন্ত, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আদালতের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটি এখন পুনঃতদন্তাধীন। রমনা থানার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মামলার আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে—কোনো আসামি যেন দেশের বাইরে পালাতে না পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও পুরনো সাক্ষ্য প্রমাণ নতুন করে যাচাই করা হলে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হবে।

সালমান শাহ: এক যুগের নায়ক, এক জাতির আবেগ

সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের সিনেমার গতি পরিবর্তনের নায়ক। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দিন আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি ছিলেন এক অনন্য তারকা। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি যা অর্জন করেছেন, তা অনেক শিল্পীর সারাজীবনের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যায়।
তার মৃত্যুর পর গোটা বাংলাদেশ যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। অসংখ্য ভক্ত আত্মহত্যা করেন, শোকসভা হয় দেশে-বিদেশে। আজও তার নাম শুনলে বয়স্ক থেকে তরুণ—সবাই আবেগাপ্লুত হয়।

২৯ বছর পর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

আজ প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেছে। সালমান শাহর ভক্ত, পরিবার ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এখন একটাই আশা করেন—ন্যায়বিচার হোক, সত্য প্রকাশ পাক।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় এই মামলার অগ্রগতি এক নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। যদি প্রমাণিত হয় সালমান শাহ সত্যিই খুন হয়েছেন, তবে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দেশের আইন ও ন্যায়বিচারের এক ঐতিহাসিক বিজয় হবে।

সালমান শাহর মৃত্যু আজও বাঙালির হৃদয়ে এক অমীমাংসিত বেদনা। কিন্তু আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যেন একটুখানি আলো দেখা যাচ্ছে। হয়তো এবার সত্যিই জানা যাবে—সেই ১২ লাখ টাকার চুক্তি, সেই রাতের পরিকল্পনা, আর সেই নৃশংসতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের মুখোশ।

এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শুধু একজন নায়কের জন্য নয়, এটি ন্যায়বিচারের জন্য এক জাতির জয়গান হয়ে থাকবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১২ লাখ টাকায় খুন হন সালমান শাহ!

Update Time : ১০:১৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

1758254124

১২ লাখ টাকায় খুন হন সালমান শাহ! তিন দশক পর রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে আলোচিত মৃত্যু

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন মৃত্যু আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি। নব্বইয়ের দশকের সুপারস্টার সালমান শাহ, যিনি তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথমে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মহল ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে রায় দেয়, কিন্তু সালমানের পরিবার ও ভক্তরা শুরু থেকেই বলে আসছেন—এটি আত্মহত্যা নয়, একটি পরিকল্পিত হত্যা

রহস্যময় মৃত্যু থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর

সালমান শাহর মৃত্যুর পরপরই শুরু হয় বিতর্ক। স্ত্রী সামিরা হক দাবি করেন, সালমান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সালমানের মা ও মামা শুরু থেকেই অভিযোগ করেন, “আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।” তারা আদালতে বারবার তদন্তের আবেদন করেন।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর, আদালত অবশেষে সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দেন। এর ২৪ ঘণ্টা পরেই সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এটি বাংলাদেশের বিনোদন জগতে এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দেয়।

রেজভীর স্বীকারোক্তি: ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে খুন

এই মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভী কর্তৃক আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি পুনরায় সামনে আসায়। সেখানে রেজভী স্বীকার করেন,

“আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছিল।”

রেজভীর জবানবন্দিতে উঠে আসে এক ভয়াবহ তথ্য—সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল ১২ লাখ টাকার এক চুক্তির বিনিময়ে। এই চুক্তির পেছনে ছিলেন সালমানের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, এবং পরিকল্পনায় ছিলেন সামিরা হক, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুকজাভেদসহ আরো কয়েকজন।

রেজভী জানান, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের একটি বারে রাতে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। প্রথমে ২ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়, পরে কাজের আগে ৬ লাখ ও শেষে ৬ লাখ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেখানে প্লাস্টিকের

দড়ি, ইনজেকশন, ক্লোরোফর্ম, রিভলভার প্রস্তুত রাখা হয়।

সেই রাতের ভয়াবহ বিবরণ

রেজভীর বয়ানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর বিবরণ। তিনি বলেন,
রাত আড়াইটার দিকে তারা সালমান শাহর ইস্কাটনের বাসায় যান। তখন সালমান ঘুমিয়ে ছিলেন। সামিরা ও তার মা উপস্থিত ছিলেন।
সামিরা প্রথমে সালমানকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর সালমানের জ্ঞান ফিরে আসে। তখন সালমান ধস্তাধস্তি শুরু করলে আজিজ ভাই নামে এক ব্যক্তি তাকে ইনজেকশন দিতে বলেন। সালমানের শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগের পর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
এরপর পরিকল্পনামতো তাকে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।

রেজভী বলেন,

“আমরা কাজ শেষ করেছি। সকালে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কেউ বুঝবে না এটি খুন, সবাই বলবে সালমান আত্মহত্যা করেছে।”

বছরের পর বছর তদন্তে গড়িমসি

ঘটনার পর সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিবারই ফলাফল একই—“আত্মহত্যা”। সালমানের মা ও ভক্তরা বারবার অভিযোগ করেছেন, তদন্তগুলো প্রভাবিত ছিল, আসল সত্য গোপন করা হয়েছে।
২০১৬ সালে সিআইডি তদন্তেও বলা হয় সালমান আত্মহত্যা করেছেন, যা পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। তারা বলেন, “যে ছেলেটি সাফল্যের চূড়ায়, কোটি মানুষের প্রিয়, সে কেন আত্মহত্যা করবে?”

আদালতের নির্দেশে নতুন তদন্ত, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আদালতের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটি এখন পুনঃতদন্তাধীন। রমনা থানার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মামলার আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে—কোনো আসামি যেন দেশের বাইরে পালাতে না পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও পুরনো সাক্ষ্য প্রমাণ নতুন করে যাচাই করা হলে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হবে।

সালমান শাহ: এক যুগের নায়ক, এক জাতির আবেগ

সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের সিনেমার গতি পরিবর্তনের নায়ক। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দিন আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি ছিলেন এক অনন্য তারকা। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি যা অর্জন করেছেন, তা অনেক শিল্পীর সারাজীবনের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যায়।
তার মৃত্যুর পর গোটা বাংলাদেশ যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। অসংখ্য ভক্ত আত্মহত্যা করেন, শোকসভা হয় দেশে-বিদেশে। আজও তার নাম শুনলে বয়স্ক থেকে তরুণ—সবাই আবেগাপ্লুত হয়।

২৯ বছর পর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

আজ প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেছে। সালমান শাহর ভক্ত, পরিবার ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এখন একটাই আশা করেন—ন্যায়বিচার হোক, সত্য প্রকাশ পাক।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় এই মামলার অগ্রগতি এক নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। যদি প্রমাণিত হয় সালমান শাহ সত্যিই খুন হয়েছেন, তবে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দেশের আইন ও ন্যায়বিচারের এক ঐতিহাসিক বিজয় হবে।

সালমান শাহর মৃত্যু আজও বাঙালির হৃদয়ে এক অমীমাংসিত বেদনা। কিন্তু আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যেন একটুখানি আলো দেখা যাচ্ছে। হয়তো এবার সত্যিই জানা যাবে—সেই ১২ লাখ টাকার চুক্তি, সেই রাতের পরিকল্পনা, আর সেই নৃশংসতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের মুখোশ।

এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শুধু একজন নায়কের জন্য নয়, এটি ন্যায়বিচারের জন্য এক জাতির জয়গান হয়ে থাকবে।