সবজির দাম কমার লক্ষণ নেই, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
- Update Time : ০৮:২৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৬৪ Time View

সবজির দাম কমার লক্ষণ নেই, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে দেরি, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির বাজারে এখনো স্বস্তির কোনো আভাস নেই। দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে চড়া। সাধারণত এই সময়টায় শীতের আগাম সবজি বাজারে এসে দামের চাপ কিছুটা লাঘব করে। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম ঘটেছে—শীতের আগাম সবজির দেখা মিলছে না বললেই চলে। ফলে অন্তত আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিক্রেতা ও ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির কেজি ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই অভিযোগ করছেন, টানা কয়েক মাস ধরে এভাবে চড়া দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভীষণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
কাঁচা মরিচের দামে আগুন
বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার আশপাশে। কয়েক সপ্তাহ আগেও দাম আরও বেশি ছিল। স্থানীয় মরিচের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে—বেশিরভাগ মরিচই ভারত থেকে আমদানি করা। ফলে সীমান্তে আমদানি ব্যাহত হলে বা টানা বৃষ্টি হলে দাম সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। গত মাসে এক পর্যায়ে মরিচের দাম খুচরায় প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছিল, পরে কিছুটা কমে আসে।
বেগুন, টমেটো ও অন্যান্য সবজির চড়া দাম
ধরন ও মানভেদে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৮০ টাকায়। বেগুনের এই অস্বাভাবিক দাম প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী। টমেটোর অবস্থাও একই—প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব টমেটো দেশীয় নয়, ভারত থেকে আমদানি করা। বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয় টমেটো বাজারে আসার আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
এছাড়া করলা, কাঁকরোল, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, লতি ইত্যাদি সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুলের দামও কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে বাজারভেদে ও মান অনুসারে দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
শীতের আগাম সবজি, দাম আকাশছোঁয়া
বাজারে এখন অল্প পরিমাণে শীতের আগাম সবজি যেমন শিম, ফুলকপি ও লালশাক পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা শীত মৌসুমে নেমে আসে ৪০–৫০ টাকায়। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।
বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার বলেন, “এ বছর মৌসুমি পরিবর্তন কিছুটা দেরিতে হয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছি। তখন দামও কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
আলু-পেঁয়াজে খানিকটা স্বস্তি
সবজির চড়া দামের বিপরীতে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক মাস ধরেই কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি দাম আরও ২ টাকা কমে এখন ২০ টাকায় নেমেছে। পেঁয়াজের দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল—প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাল, ডিম ও মুরগির বাজারে সামান্য পরিবর্তন
চালের বাজারে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট ৭০–৮০ টাকা, নাজির ৭০–৮৫ টাকা, ব্রি–২৮ চাল ৫৬–৫৮ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা ৫২–৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ১৫ দিনে ব্রি–২৮, নাজির ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
অন্যদিকে, ফার্মের ডিমের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে। এক ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামও এক মাস ধরে তুলনামূলক স্থিতিশীল—প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০–১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের হতাশা
সবজি ক্রেতা রুবিনা আক্তার বললেন, “বাজারে ঢুকে আর দাম জিজ্ঞেস করার সাহস পাই না। আগের মতো এক কেজি করে না, এখন আধা কেজি নিয়েও চিন্তা করতে হয়।” একইভাবে বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি নির্ভরতা এবং অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, অল্প বৃষ্টিপাত ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগাম সবজির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফাবাজিও দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ। সরকার যদি দ্রুত কৃষিপণ্যের সরবরাহ চেইন সহজ করে এবং পর্যাপ্ত আমদানি নিশ্চিত করে, তাহলে নভেম্বরে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।











