ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল নীতির কঠোর নিন্দা জানালো বাংলাদেশ
- Update Time : ০২:৪২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৪৬ Time View

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সম্প্রতি পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার বিল অনুমোদিত হওয়ার পর, বাংলাদেশ এই পদক্ষেপের কঠোর ও দৃঢ় নিন্দা জানিয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে তেল আবিব কার্যত ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট অংশগুলোকেও নিজেদের অধীনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড—বিশেষ করে পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করছে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৩৩৪-এর সরাসরি অবমাননা। ওই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের সীমানার বাইরে ইসরায়েলের সব বসতি অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে এর কোনো স্বীকৃতি নেই। তবুও ইসরায়েল এসব প্রস্তাব উপেক্ষা করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো অংশের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। ঢাকা আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) সম্প্রতি যে পরামর্শমূলক অভিমত প্রদান করেছে, তাতে ইসরায়েলের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধতা পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই অভিমতকে স্বাগত জানায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানায় যাতে তারা একযোগে এই অবৈধ দখলদার নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অখণ্ড ও অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় স্পষ্ট—১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ইসরায়েলের এই আক্রমণাত্মক ও দখলদার নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ঢাকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিশ্ব শান্তি, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ন্যায়বিচার ও মানবতার প্রশ্ন। তাই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের একতরফা দখল নীতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি বলে বাংলাদেশ মনে করে।











