ইসকন নিষিদ্ধ করুন: টঙ্গী ইমামের গুম ও নির্যাতন সংক্রান্ত নিন্দা ও আহ্বান — প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
- Update Time : ০৯:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৮৭ Time View

গাজীপুরের টঙ্গী বিটিসিএল টিএন্ডটি কলোনি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিবল্লাহ মিয়াজীকে গুম করে নির্মমভাবে নির্যাতন করার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের সংবিধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কার্যকর অনুসন্ধান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রফেসর ড. আল-গালিব বলেন, মাওলানা মিয়াজীকে জুমার খুৎবার সময় সক্রিয়ভাবে হক কথা বলায় লক্ষ্যবস্তু করে প্রথমে হুমকিমূলক নথি প্রেরণ ও পরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে তুলে নিয়ে গিয়ে তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাঁকে ভয়াবহভাবে পিটিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পঞ্চগড় জেলার এক প্রত্যন্ত স্তরে রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “অতীতে চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে নির্মমভাবে হত্যা করে এই সংগঠন বা তাঁদের সক্রিয়দের নাম কান পাতায় এসেছে; গ্রাহ্যতায় এ ধরণের ঘটনাগুলো একা-একাই ঘটছে না।” বক্তৃতায় তিনি এসব দাবি করেন এবং বলেন, “ইসকন নামধারী সন্ত্রাসীরা দেশে ও বিদেশে মুসলিম-মিত্র বিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত; তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নৈকট্যহীন এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড. আল-গালিব দাবি করেন, ইসকনের বিরুদ্ধে জঙ্গি/সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে যথাযথ প্রমাণিত হলে তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশে চিরতরে নিষিদ্ধ করার প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুত এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিহিংসার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ ফল ডেকে আনতে পারে।
প্রফেসর ড. আল-গালিব সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল ইসলামি ও রাজনৈতিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও মানুষের কাছে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসকন নামধারী সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানুষের নিরাপত্তাকে রক্ষায় সব শ্রেণির সংগঠন ও নাগরিককে একজোট হতে হবে।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যেন দ্রুত তদন্ত করে ও প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকায় দ্রুত সুরক্ষা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানান।
এই প্রসঙ্গে স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিও ঘটনার অবিলম্বে স্বচ্ছ অনুসন্ধান ও বিচারের দাবি তোলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা ও অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে সরকার ও পুলিশ ফোর্স বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।












