ইবতেদায়ি শিক্ষক আন্দোলনে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সংহতি ঘোষণা: প্রয়োজনে সারাদেশে আন্দোলনে যোগ দেবে সংগঠন
- Update Time : ০৯:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৭৩ Time View

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে দেশের বৃহত্তম মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, প্রয়োজন হলে মাদরাসা পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জমিয়াতের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগদান করবেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইবতেদায়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা জমিয়াতের ঐতিহাসিক ভূমিকার ফল
জমিয়াত মহাসচিব বলেন, “স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত—উভয় ইবতেদায়ি মাদরাসাই জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের ফসল। আমাদের সাবেক সভাপতি মরহুম মাওলানা এম. এ. মান্নান (রহ.) ইবতেদায়ি শিক্ষার মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব এ. এম. এম. বাহাউদ্দীন নিরলসভাবে সেই পথেই কাজ করে যাচ্ছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইবতেদায়ি মাদরাসার কোনো নীতিমালা ছিল না, সম্মানজনক বেতন কাঠামোও ছিল না। জমিয়াতুল মোদার্রেছীন দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই ইবতেদায়ি শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা বারবার সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গিয়েছি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা আজও কার্যকর হয়নি।”
২০১৮ ও ২০২৫ সালের নীতিমালায় বৈষম্য
অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ বলেন, “২০১৮ সালে যে নীতিমালা করা হয়েছিল, তা ছিল নামমাত্র—অকার্যকর। এরপর ২০২৫ সালে নতুন নীতিমালা প্রণীত হলেও তাতে এমন কঠিন শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, অধিকাংশ মাদরাসা এমপিওভুক্ত হতে পারছে না। প্রশ্ন হলো, কে বা কারা এই জটিল শর্তগুলো যোগ করেছে? কোন স্বার্থে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের এতদিন ধরে অবহেলা ও নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে?”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত সরকারগুলোর সময়ে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা যখন কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন, তখনও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমান সরকারও আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে পরিণত হয়নি। তাই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই রাজপথে নেমেছেন। আমরা তাঁদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি।”
জমিয়াতের কড়া সতর্কবার্তা
মতবিনিময় সভায় মহাসচিব পরিষ্কার ভাষায় বলেন, “দেশকে যদি সত্যিকারের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা চলবে না। তাঁদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সারাদেশে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে মাদরাসা পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আমাদের সকল নেতৃবৃন্দ এই আন্দোলনে অংশ নেবে।”
সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা এজহারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মো. ছাদেক হাসান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মো. শামছুল আলম, উপদেষ্টা এস. এম. জয়নুল আবেদীন জেহাদী, সহসভাপতি মাওলানা নূর নবী অলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মো. ছাদেকুর রহমান, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মূলভিত্তি গড়ে তুলছেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা। অথচ আজও তাঁরা বৈষম্যের শিকার। তাঁরা দাবি করেন, সরকারের উচিত এই শিক্ষকদের প্রতি ন্যায্যতা প্রদর্শন করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতারা শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দেন, “আমরা ইবতেদায়ি শিক্ষকদের পাশে আছি, থাকব। তাঁদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”











