সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৯৬ Time View

0620be171fd84e6172955523147fe382 68f8f73ea0a7a

0620be171fd84e6172955523147fe382 68f8f73ea0a7a

জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৩টি ভিডিও মুছে ফেলেছে। টিকটক কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব ভিডিও তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন বা নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিল। বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

টিকটকের ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট ২০২৫-এর দ্বিতীয় প্রান্তিক’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরানো ভিডিওগুলোর ৯৯.শতাংশ প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয়, এবং এর ৯৭.শতাংশ ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুছে ফেলা হয়

বিশ্বব্যাপী একই সময়ে টিকটক মোট ১৮ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ২২৮টি ভিডিও সরিয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট কনটেন্টের প্রায় ০.শতাংশ। এই সংখ্যা টিকটকের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ কনটেন্ট ক্লিনআপ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে সরানো ভিডিওগুলোর মধ্যে ১৬ কোটি ৩৯ লাখ ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়ে অপসারণ করা হয়েছে, আর ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার ভিডিও পুনরায় পর্যালোচনার পর পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সময়ে, টিকটক কোটি ৬৯ লাখ ৯১ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং ১৩ বছরের কম বয়সী কোটি ৫৯ লাখ হাজার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

টিকটকের তথ্য অনুযায়ী,

  • ৩০.শতাংশ ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে কনটেন্ট নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে,
  • ১৪ শতাংশ নিরাপত্তা নীতির কারণে,
  • ৬.শতাংশ ভিডিও সরানো হয়েছে গোপনীয়তা সুরক্ষা নির্দেশনা ভঙ্গের জন্য।

এছাড়া ভুয়া তথ্য, এআই-নির্ভর ভিজ্যুয়াল বিকৃতি (ডিপফেক) ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে টিকটকের বিপুল ব্যবহারকারী সংখ্যা এবং কনটেন্ট তৈরির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে নীতিমালা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীল বিষয়ক ভিডিওতে বাড়ছে ভুয়া তথ্য ও উসকানিমূলক কনটেন্টের প্রবণতা, যা টিকটক কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।

উল্লেখ্য, টিকটক প্রতি প্রান্তিকে এ ধরনের কমিউনিটি গাইডলাইন এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট” প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বজুড়ে কনটেন্ট অপসারণ, অ্যাকাউন্ট স্থগিত, ও স্বচ্ছতা উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা দায়বদ্ধতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশে টিকটকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক দুই কোটির বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্ল্যাটফর্মটি বিনোদনের পাশাপাশি তথ্য প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে এর সঙ্গে বাড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অশালীন কনটেন্টের ঝুঁকিও, যা মোকাবেলায় টিকটক এখন আরও কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

Update Time : ০৮:২১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

0620be171fd84e6172955523147fe382 68f8f73ea0a7a

জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৩টি ভিডিও মুছে ফেলেছে। টিকটক কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব ভিডিও তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন বা নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিল। বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

টিকটকের ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট ২০২৫-এর দ্বিতীয় প্রান্তিক’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরানো ভিডিওগুলোর ৯৯.শতাংশ প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয়, এবং এর ৯৭.শতাংশ ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুছে ফেলা হয়

বিশ্বব্যাপী একই সময়ে টিকটক মোট ১৮ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ২২৮টি ভিডিও সরিয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট কনটেন্টের প্রায় ০.শতাংশ। এই সংখ্যা টিকটকের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ কনটেন্ট ক্লিনআপ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে সরানো ভিডিওগুলোর মধ্যে ১৬ কোটি ৩৯ লাখ ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়ে অপসারণ করা হয়েছে, আর ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার ভিডিও পুনরায় পর্যালোচনার পর পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সময়ে, টিকটক কোটি ৬৯ লাখ ৯১ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং ১৩ বছরের কম বয়সী কোটি ৫৯ লাখ হাজার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

টিকটকের তথ্য অনুযায়ী,

  • ৩০.শতাংশ ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে কনটেন্ট নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে,
  • ১৪ শতাংশ নিরাপত্তা নীতির কারণে,
  • ৬.শতাংশ ভিডিও সরানো হয়েছে গোপনীয়তা সুরক্ষা নির্দেশনা ভঙ্গের জন্য।

এছাড়া ভুয়া তথ্য, এআই-নির্ভর ভিজ্যুয়াল বিকৃতি (ডিপফেক) ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে টিকটকের বিপুল ব্যবহারকারী সংখ্যা এবং কনটেন্ট তৈরির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে নীতিমালা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীল বিষয়ক ভিডিওতে বাড়ছে ভুয়া তথ্য ও উসকানিমূলক কনটেন্টের প্রবণতা, যা টিকটক কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।

উল্লেখ্য, টিকটক প্রতি প্রান্তিকে এ ধরনের কমিউনিটি গাইডলাইন এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট” প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বজুড়ে কনটেন্ট অপসারণ, অ্যাকাউন্ট স্থগিত, ও স্বচ্ছতা উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা দায়বদ্ধতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশে টিকটকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক দুই কোটির বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্ল্যাটফর্মটি বিনোদনের পাশাপাশি তথ্য প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে এর সঙ্গে বাড়ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অশালীন কনটেন্টের ঝুঁকিও, যা মোকাবেলায় টিকটক এখন আরও কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে।