দেশে স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা
- Update Time : ০৮:০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৪৯ Time View

টানা ৮ দফা বাড়ার পর অবশেষে দেশের স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদার পরিবর্তন বিবেচনা করে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেই প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হবে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা।
একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্বর্ণের ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন, কারিগরি জটিলতা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর বাজুস শেষবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছিল। ওই সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫ টাকা। নতুন দাম কার্যকর হয়েছিল ২০ অক্টোবর থেকে।
চলতি বছর (২০২৫) এখন পর্যন্ত মোট ৬৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে—যার মধ্যে ৪৮ বার দাম বেড়েছে এবং মাত্র ১৯ বার কমেছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে স্বর্ণের দাম ৬২ বার পরিবর্তিত হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমেছিল।
স্বর্ণের সঙ্গে এবার রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভরিতে ৭৩৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৫ হাজার ২১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৩ হাজার ৩৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক পতন, ডলারের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা, এবং স্থানীয় চাহিদার কিছুটা হ্রাস—সব মিলিয়ে বাজুসকে দাম কমাতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি আনলেও উৎসব মৌসুমে আবারও স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২ লাখ টাকার নিচে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ নামা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক বিরল ঘটনা, যা সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্ণ কেনায় নতুন উৎসাহ জাগাতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিবর্তনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ দামে দ্রুত প্রতিফলিত হয়, তাই স্থিতিশীল দাম বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রয়োজন।











