সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে ভালুকের ভয়াবহ তাণ্ডব: রেকর্ড ৯ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে গ্রামীণ জনপদ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৩৯ Time View

8e4abae3b48a772ce174e6dd0db3ab1d 68f8fb48c515b

8e4abae3b48a772ce174e6dd0db3ab1d 68f8fb48c515b

জাপানে চলতি বছর ভালুকের আক্রমণ অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভালুকের আক্রমণে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন—যা দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সবচেয়ে বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটছে সেইসব অঞ্চলে, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে বনের নিকটবর্তী ছোট ছোট গ্রামীণ জনপদে আতঙ্ক এখন চরমে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের নবনিযুক্ত পরিবেশমন্ত্রী বিষয়টিকে “একটি বড় ও গুরুতর জাতীয় সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভালুকের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং মানুষের বসতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রবেশ রোধে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। সরকারি শিকারীদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ভালুকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।”

চলতি বছরে নিহতের সংখ্যা এর আগে যেকোনো বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ঘটনায় ৭০ বছরের এক প্রবীণ ব্যক্তি পাহাড়ি এলাকায় মাশরুম সংগ্রহ করতে গিয়ে ভালুকের আক্রমণে নিহত হন। কেবল গ্রামীণ মানুষই নয়, পর্যটক, দোকানদার ও স্থানীয় শিশুদের প্রতিও হামলার ঘটনা বেড়েছে। অনেক এলাকায় ভালুক দোকান ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে, স্কুলের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে—যা স্থানীয় প্রশাসনকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে।

বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো এবং তোহোকু অঞ্চলে ভালুকের চলাচল ও আক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের বসতি বনের দিকে বিস্তৃত হওয়ায় প্রাণীগুলো খাবারের সন্ধানে শহর ও গ্রামে প্রবেশ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাপানে বর্তমানে দুটি প্রজাতির ভালুক দেখা যায়—একটি হলো এশিয়ান কালো ভালুক (Asian Black Bear) এবং অন্যটি বড় আকারের বাদামী ভালুক (Brown Bear)। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর হাজার হাজার ভালুককে গুলি করে হত্যা বা বনে পুনর্বাসন করা হয়, তবুও আক্রমণ রোধে তেমন সাফল্য মিলছে না।

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে ভালুকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ও সেন্সর স্থাপন, গ্রামীণ এলাকায় সতর্কবার্তা জারি এবং স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা মহড়া চালু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আধিক্যের কারণে অনেক গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। ফলে ভালুকেরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করছে, যা মানুষ-প্রকৃতির সংঘাতকে আরও গভীর করছে।

পরিবেশমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত সতর্ক করে বলেন, “আমরা চাই না মানুষ আর ভালুকের সংঘর্ষে মরুক। তবে এর জন্য জাতীয় পর্যায়ে একযোগে পদক্ষেপ নিতে হবে—প্রতিরোধ, সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাপানে ভালুকের ভয়াবহ তাণ্ডব: রেকর্ড ৯ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে গ্রামীণ জনপদ

Update Time : ০৭:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

8e4abae3b48a772ce174e6dd0db3ab1d 68f8fb48c515b

জাপানে চলতি বছর ভালুকের আক্রমণ অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভালুকের আক্রমণে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন—যা দেশটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সবচেয়ে বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটছে সেইসব অঞ্চলে, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে বনের নিকটবর্তী ছোট ছোট গ্রামীণ জনপদে আতঙ্ক এখন চরমে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের নবনিযুক্ত পরিবেশমন্ত্রী বিষয়টিকে “একটি বড় ও গুরুতর জাতীয় সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভালুকের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং মানুষের বসতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রবেশ রোধে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। সরকারি শিকারীদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ভালুকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।”

চলতি বছরে নিহতের সংখ্যা এর আগে যেকোনো বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ঘটনায় ৭০ বছরের এক প্রবীণ ব্যক্তি পাহাড়ি এলাকায় মাশরুম সংগ্রহ করতে গিয়ে ভালুকের আক্রমণে নিহত হন। কেবল গ্রামীণ মানুষই নয়, পর্যটক, দোকানদার ও স্থানীয় শিশুদের প্রতিও হামলার ঘটনা বেড়েছে। অনেক এলাকায় ভালুক দোকান ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে, স্কুলের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে—যা স্থানীয় প্রশাসনকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে।

বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো এবং তোহোকু অঞ্চলে ভালুকের চলাচল ও আক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের বসতি বনের দিকে বিস্তৃত হওয়ায় প্রাণীগুলো খাবারের সন্ধানে শহর ও গ্রামে প্রবেশ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাপানে বর্তমানে দুটি প্রজাতির ভালুক দেখা যায়—একটি হলো এশিয়ান কালো ভালুক (Asian Black Bear) এবং অন্যটি বড় আকারের বাদামী ভালুক (Brown Bear)। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর হাজার হাজার ভালুককে গুলি করে হত্যা বা বনে পুনর্বাসন করা হয়, তবুও আক্রমণ রোধে তেমন সাফল্য মিলছে না।

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে ভালুকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ও সেন্সর স্থাপন, গ্রামীণ এলাকায় সতর্কবার্তা জারি এবং স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা মহড়া চালু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আধিক্যের কারণে অনেক গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। ফলে ভালুকেরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করছে, যা মানুষ-প্রকৃতির সংঘাতকে আরও গভীর করছে।

পরিবেশমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত সতর্ক করে বলেন, “আমরা চাই না মানুষ আর ভালুকের সংঘর্ষে মরুক। তবে এর জন্য জাতীয় পর্যায়ে একযোগে পদক্ষেপ নিতে হবে—প্রতিরোধ, সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে।”