সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৪৯ Time View

ICC COURT

ICC COURT

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় বাংলাদেশের ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেওয়া এই আদেশে আদালত সংশ্লিষ্ট ১৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন, আর একজন কর্মকর্তা বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (PRL) রয়েছেন।

prothomalo bangla 2025 10 22 hif78bik Image

যাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে)।

এ ছাড়া র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম রয়েছেন অভিযুক্তদের তালিকায়।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর সাবেক তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তাঁরা হলেন—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং নির্বিচারে গ্রাম দখলের মতো গুরুতর অপরাধ।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালে পুনর্গঠনের পর থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এত সংখ্যক সক্রিয় সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা গঠন ও গ্রেপ্তারি নির্দেশ জারি হলো, যা দেশের বিচারব্যবস্থা ও সামরিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পরিবার দাবি করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। আদালত আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে আগামী সপ্তাহে, যেখানে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধবিষয়ক বিচার আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নড়াচড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

Update Time : ১০:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

ICC COURT

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় বাংলাদেশের ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেওয়া এই আদেশে আদালত সংশ্লিষ্ট ১৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন, আর একজন কর্মকর্তা বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (PRL) রয়েছেন।

prothomalo bangla 2025 10 22 hif78bik Image

যাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে)।

এ ছাড়া র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম রয়েছেন অভিযুক্তদের তালিকায়।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর সাবেক তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তাঁরা হলেন—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং নির্বিচারে গ্রাম দখলের মতো গুরুতর অপরাধ।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালে পুনর্গঠনের পর থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এত সংখ্যক সক্রিয় সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা গঠন ও গ্রেপ্তারি নির্দেশ জারি হলো, যা দেশের বিচারব্যবস্থা ও সামরিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পরিবার দাবি করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। আদালত আগামী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে আগামী সপ্তাহে, যেখানে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধবিষয়ক বিচার আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নড়াচড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।