রাতে উত্তাল বুয়েট: ধর্ষণ অভিযোগে এক শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত, শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি
- Update Time : ১১:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৪৪ Time View

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) মঙ্গলবার রাতে তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে। অভিযোগ ওঠার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বহিষ্কার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন। রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই বিক্ষোভ, যার একপর্যায়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে উত্তপ্ত।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২১ ব্যাচের ছাত্র শ্রীশান্ত রায়কে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন, “শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ জারি করেছে।” তিনি আরও জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর নামে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খুব শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।”
তবে এই ঘোষণা শুনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একযোগে “না না” বলে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁদের দাবি ছিল, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ বলেন, “আমি উপাচার্যের নির্দেশক্রমে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। স্থায়ী বহিষ্কারের ক্ষমতা আমার নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদিও আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগী বা শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে মামলা করার কথা, তবুও শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ঘটনাটি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেক শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন বুয়েটিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে শূন্য
উল্লেখ্য, ইইই বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ আনেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাতভর বিক্ষোভ চালান, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বুয়েটের মতো দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা কেবল প্রশাসনিক ত্রুটির ইঙ্গিত নয়, বরং এটি শিক্ষাঙ্গনে নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, কেবল সাময়িক বহিষ্কার নয়—এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রশাসন। রাতভর উত্তেজনা শেষে ভোরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবির প্রতি অটল রয়েছেন—“ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”











