পিআর পদ্ধতিসহ ৫ দফা দাবি কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত ও সমমনা ইসলামী দলগুলোর
- Update Time : ০৬:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
- / ৯৮ Time View

পিআর পদ্ধতিসহ ৫ দফা দাবি
কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত ও সমমনা ইসলামী দলগুলোর
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোট এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক (PR) নির্বাচনী পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবিতে নতুন করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে দেশের প্রধান ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সমমনা ইসলামি জোটের দলসমূহ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই দলগুলো যৌথভাবে তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তারা দাবি জানিয়েছেন— জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ, গণভোটের আয়োজন, নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন, নিরপেক্ষ ও সমান সুযোগের (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণভোট বা পিআর পদ্ধতির দাবির সঙ্গে জুলাই সনদের স্বাক্ষরের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। সনদে শুধু সেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, যেগুলোতে সব রাজনৈতিক দল সম্মত হয়েছে। তাই এটি জাতীয় ঐক্যের একটি দলিল, কোনো নির্বাচনী সমঝোতা নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চাই। তবে নির্বাচনের আগে অবশ্যই জুলাই সনদের বাস্তবায়নের নির্দেশ জারি করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত জানতে হবে। আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা নয়, বরং জনগণের অধিকার ও ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্দোলনের চতুর্থ ধাপে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলগুলো জানায়, সরকার যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এসব দাবি না মানে, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলো—
২০ অক্টোবর: রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
২৫ অক্টোবর: দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
২৭ অক্টোবর:
জোটের নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে সারা দেশে অব্যাহত গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা হারিয়েছে এবং প্রচলিত একক আসনভিত্তিক (First-Past-The-Post) ভোটব্যবস্থা জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থায় পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন করে সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
তারা বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দিতে হবে, যাতে জাতি নতুন এক রাজনৈতিক ঐকমত্যের পথে অগ্রসর হতে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামী দলগুলোর এই কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রশ্নে শুধু ইসলামী দলগুলো নয়, বরং কিছু উদারপন্থী দলও এখন আলোচনা শুরু করেছে। ফলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়ছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা গঠনের চাপ।












