জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করলেই ১৯ অক্টোবর থেকে সাইট ব্লক: সরকারের কঠোর নির্দেশনা
- Update Time : ০২:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৬৯ Time View

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, নিউজ পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ও প্রমোশনাল কনটেন্ট প্রচারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কার্যক্রম কেবল সামাজিক নৈতিকতার পরিপন্থী নয়, বরং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর সরাসরি লঙ্ঘন। এসব অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দণ্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।
এই প্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক প্রজ্ঞাপন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে। জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ অক্টোবর (রবিবার) থেকে যদি কোনো সংবাদমাধ্যম (মুদ্রিত বা অনলাইন সংস্করণ), নিউজ পোর্টাল, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ, কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলে জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট প্রচারিত হয়, তবে বিনা নোটিশেই সেই সাইট বা প্ল্যাটফর্ম সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করে দেওয়া হবে।

শনিবার দুপুরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের পাঠানো এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সাইবার পরিসরকে নিরাপদ, নৈতিক, এবং তরুণ প্রজন্ম-বান্ধব রাখা। এজন্য কোনোভাবেই জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফির প্রচারকে সহ্য করা হবে না।
সরকারের সতর্কতার পরপরই কিছু দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম যেমন ক্রিকইনফো, জনকণ্ঠ, ঢাকা পোস্টসহ আরও বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল তাদের বিজ্ঞাপন সেটিংস ও এডসেন্স নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। তাদের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য মন্ত্রণালয় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে।
এদিকে, সরকারের এই অভিযানকে সফল করতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ), জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা
তারা জুয়া বা বেটিং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনদাতা, প্ল্যাটফর্ম প্রশাসক এবং আর্থিক লেনদেনকারীদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো অনলাইন মিডিয়া বা অ্যাপ যদি বিদেশি সার্ভার ব্যবহার করেও এই ধরনের প্রচারণা চালায়, তাহলেও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সাইবার সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের সামাজিক নীতি-নৈতিকতা রক্ষার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের ফলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো আরও দায়িত্বশীল হবে, যা বাংলাদেশকে একটি নৈতিক ও নিরাপদ ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।











