সুষ্ঠু হজ পালনে সৌদি সরকারের ৬ নির্দেশনা: কঠোর নজরদারিতে হজ ব্যবস্থাপনা
- Update Time : ০৪:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৪১ Time View

আগামী বছরের (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে ২০২৬) পবিত্র হজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই নির্দেশনা বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) হজ এজেন্সিগুলোর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।
চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য হজ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন, এবং প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবারই। নির্দেশনায় সৌদি সরকার জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি, কর্মকর্তা কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনকি তাদের স্থায়ীভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
নিচে সৌদি সরকারের দেওয়া ছয়টি নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
১. হজ চুক্তির খসড়া ও তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা
বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রীর সংখ্যা, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে আগমন-গমনকারী হজযাত্রীর সংখ্যা ইত্যাদি তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে পাঠাতে হবে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই হজ চুক্তির খসড়া প্রণয়ন করা হবে।
২. হজযাত্রী শিফটিংয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
সৌদি সরকার এবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো হজযাত্রীকে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে স্থানান্তর করা যাবে না।
একইভাবে, “মাসার সিস্টেমে” এক ভবনের তথ্য দিয়ে অন্য ভবনে আবাসনের ব্যবস্থা করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এমন অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও তাদের প্রধানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, এবং ভবিষ্যতে তাদের সৌদি আরবে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
৩. কালো তালিকাভুক্ত এজেন্সির নিষেধাজ্ঞা
২০২৫ সালে যেসব হজ এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠান সৌদি মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে, তারা আগামী ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে কোনোভাবেই অংশ নিতে পারবে না।
এ নির্দেশনা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪. হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তথ্য আপলোড বাধ্যতামূলক
হজ কার্যক্রমের সমন্বয়ের জন্য একটি অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে।
এই গ্রুপে প্রতিটি অনুমোদিত এজেন্সিকে তাৎক্ষণিকভাবে আপলোড করতে হবে—
- যোগ্য এজেন্সির তালিকা
- সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে মোট হজযাত্রীর সংখ্যা
- তাঁবু বুকিং সংক্রান্ত তথ্য
- লিড এজেন্সির তালিকা ও তাদের যাত্রীর সংখ্যা
- হজ ফি ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত আইবিএএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
এই তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫. স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশনা
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৯ ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না।
প্রত্যেক হজযাত্রীকে ভিসা পাওয়ার আগে ‘হজ অ্যাফেয়ার্স সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করতে হবে।
যদি কোনো মেডিক্যাল টিম সার্টিফিকেট প্রদানে ভুল করে বা জাল তথ্য দেয়, তাহলে—
- সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল টিমের প্রধানকে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হবে
- ভবিষ্যতে তাদের মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে
- প্রয়োজনে হজ অ্যাফেয়ার্স অফিসের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা পরবর্তী বছরের হজ কোটা বণ্টনে প্রভাব ফেলবে।
৬. নুসুক কার্ডে সঠিক তথ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের নুসুক কার্ড বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পরিবহনকারী বাসেই সরবরাহ করা হবে।
এর জন্য প্রতিটি এজেন্সিকে আগেই জমা দিতে হবে—
- হজযাত্রীর হোটেলের নাম, ঠিকানা, কক্ষ ও বেড নম্বর
- মক্কা ও মদিনায় অবস্থান সংক্রান্ত পূর্ণ তথ্য
এই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে তা হজযাত্রীদের কার্ডে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে, এবং এজেন্সি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার মুখে পড়বে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি সরকারের এই ছয়টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে হজযাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং পুরো হজ কার্যক্রম শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
সৌদি সরকারের এই নতুন নির্দেশনাগুলো মূলত স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে। হজযাত্রীদের সেবা, আবাসন, স্বাস্থ্য ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতে এবার নজরদারি থাকবে আরও কঠোর। ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে কোনোভাবেই অনিয়মকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।











