‘পাঁচ একীভূত ইসলামী ব্যাংক’ নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক
- Update Time : ০৬:৩১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
- / ২৬৫ Time View

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে—অর্থ মন্ত্রণালয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে। সরকার বলেছে, একীভূতকরণের পুরো প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তাঁদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন” মর্মে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। বরং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং বিনিয়োগকারীরা আস্থার সঙ্গে তাঁদের আর্থিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় জনগণকে এ ধরনের গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি না করতে পারে, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও তৎপর রয়েছে।”
নতুন ব্যাংকের কাঠামো ও নাম প্রস্তাব
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে।
নতুন ব্যাংকের জন্য প্রস্তাবিত দুটি নাম হলো—
১. ইন্টার ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, অথবা
২. সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি।
চূড়ান্ত নাম নির্ধারণ ও গঠন প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন
এর আগে গত ৯ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক গঠনের প্রস্তাবনা নীতিগতভাবে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক ইসলামী ব্যাংকের ওপর তারল্য সংকট, পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম এবং ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় একটি শক্তিশালী এবং স্বচ্ছ ইসলামী ব্যাংক গঠন করে খাতটিকে টেকসই পথে নিয়ে আসতে।
বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করছে সরকার
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংক একীভূতকরণের ফলে কোনো আমানতকারী বা বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। বিদ্যমান ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের হিসাব, আমানত ও বিনিয়োগ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
একই সঙ্গে শরীয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে ইসলামী অর্থব্যবস্থার নীতিমালা অক্ষুণ্ণ থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে একীভূতকরণ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাত নতুন আস্থা ও স্থিতিশীলতার যুগে প্রবেশ করবে। তবে একীভূত ব্যাংকের কার্যকর পরিচালনা, শেয়ার পুনর্বণ্টন, ব্যবস্থাপনা বোর্ডের গঠন এবং গ্রাহক আস্থা ধরে রাখা—এসব দিক সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সব মিলিয়ে, ‘পাঁচ একীভূত ইসলামী ব্যাংক’-এর বিষয়টি এখন বাংলাদেশের আর্থিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত প্রসঙ্গ। সরকার বলছে, এটি কোনো সংকটের ইঙ্গিত নয়, বরং ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি সংস্কারধর্মী উদ্যোগ।











