সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৩৮ Time View

fb5abee142ade217e2bee982bf7192be 68e9dd2819931

fb5abee142ade217e2bee982bf7192be 68e9dd2819931

বাড়িভাড়া চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
অপর্যাপ্ত অবাস্তবসরকারি ঘোষণা প্রত্যাখ্যান, ১২ অক্টোবর ঢাকায় বড় সমাবেশের আহ্বান

সরকার ঘোষিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিকে ‘অপর্যাপ্ত, অবাস্তব ও অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে আবারও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সরকারের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ এতটাই নগণ্য যে, তা শিক্ষকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ দাবিতে আগামী রোববার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বৃহৎ সমাবেশ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সেই কর্মসূচি থেকেই তারা টানা কর্মবিরতি লাগাতার অবস্থান আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা পোস্টকে বলেন,
“সরকার যে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি করেছে, তা শিক্ষকদের সঙ্গে এক ধরনের পরিহাস। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ৫০০ টাকায় এখন পরিবারের একদিনের বাজারও হয় না। আমরা এই অবাস্তব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং দাবি করছি—মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা কমপক্ষে ১,৫০০ টাকায় উন্নীত করার।”

আজিজী আরও বলেন, “ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে শিক্ষকরা ঢাকায় রওনা হয়েছেন। আগামীকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের সমাবেশ থেকে যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ও পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা আসবে।”

শিক্ষকনেতারা মনে করছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত তাদের প্রতি অবমূল্যায়নের শামিল। তারা বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বহুদিন ধরে বঞ্চিত। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের চাপ, বাসাভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষকদের পারিবারিক সংকটের মধ্যে এই সামান্য ভাতা বৃদ্ধি কোনো বাস্তব স্বস্তি দিচ্ছে না।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিল সংগঠনটি। তখন তারা বাড়িভাড়া

চিকিৎসা ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশে উন্নীত করা, সর্বজনীন বদলি নীতিমালা চালু করা, এবং শিক্ষা জাতীয়করণের রূপরেখা ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশে অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি, বিভাগীয় শহরে সম্মেলন, এবং ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষকনেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত তাদের দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না করে, তাহলে এই আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ নেবে। তারা সতর্ক করে বলেন, “আমরা শিক্ষার মান উন্নয়নে আজীবন কাজ করছি, কিন্তু আমাদের জীবনের মান দিনদিন অবনতি হচ্ছে। এবার আমরা ন্যায্য দাবি আদায়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।”

চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারি ব্যয়সংকোচনের পরও দেশের ৫ লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ন্যায্য সুবিধার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আগামী ১২ অক্টোবরের সমাবেশটি এই আন্দোলনের নতুন মোড় আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

Update Time : ১১:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

fb5abee142ade217e2bee982bf7192be 68e9dd2819931

বাড়িভাড়া চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
অপর্যাপ্ত অবাস্তবসরকারি ঘোষণা প্রত্যাখ্যান, ১২ অক্টোবর ঢাকায় বড় সমাবেশের আহ্বান

সরকার ঘোষিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিকে ‘অপর্যাপ্ত, অবাস্তব ও অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে আবারও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সরকারের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ এতটাই নগণ্য যে, তা শিক্ষকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ দাবিতে আগামী রোববার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বৃহৎ সমাবেশ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সেই কর্মসূচি থেকেই তারা টানা কর্মবিরতি লাগাতার অবস্থান আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা পোস্টকে বলেন,
“সরকার যে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি করেছে, তা শিক্ষকদের সঙ্গে এক ধরনের পরিহাস। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ৫০০ টাকায় এখন পরিবারের একদিনের বাজারও হয় না। আমরা এই অবাস্তব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং দাবি করছি—মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা কমপক্ষে ১,৫০০ টাকায় উন্নীত করার।”

আজিজী আরও বলেন, “ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে শিক্ষকরা ঢাকায় রওনা হয়েছেন। আগামীকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের সমাবেশ থেকে যদি সরকার ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ও পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা আসবে।”

শিক্ষকনেতারা মনে করছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত তাদের প্রতি অবমূল্যায়নের শামিল। তারা বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বহুদিন ধরে বঞ্চিত। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের চাপ, বাসাভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষকদের পারিবারিক সংকটের মধ্যে এই সামান্য ভাতা বৃদ্ধি কোনো বাস্তব স্বস্তি দিচ্ছে না।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিল সংগঠনটি। তখন তারা বাড়িভাড়া

চিকিৎসা ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশে উন্নীত করা, সর্বজনীন বদলি নীতিমালা চালু করা, এবং শিক্ষা জাতীয়করণের রূপরেখা ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশে অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি, বিভাগীয় শহরে সম্মেলন, এবং ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষকনেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত তাদের দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না করে, তাহলে এই আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ নেবে। তারা সতর্ক করে বলেন, “আমরা শিক্ষার মান উন্নয়নে আজীবন কাজ করছি, কিন্তু আমাদের জীবনের মান দিনদিন অবনতি হচ্ছে। এবার আমরা ন্যায্য দাবি আদায়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।”

চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারি ব্যয়সংকোচনের পরও দেশের ৫ লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ন্যায্য সুবিধার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আগামী ১২ অক্টোবরের সমাবেশটি এই আন্দোলনের নতুন মোড় আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।