‘প্রতি রাতে সাপ হয়ে দংশন করেন স্ত্রী’: প্রশাসনে স্বামীর অদ্ভুত অভিযোগে চাঞ্চল্য
- Update Time : ১১:০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
- / ১০০ Time View

ভারতের উত্তর প্রদেশের সীতাপুর জেলায় ঘটে গেছে এক রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঘটনা। এক স্বামী অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী প্রতি রাতে সাপের রূপ ধারণ করেন এবং তাকে দংশন করার চেষ্টা করেন! ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বিস্মিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সমাজে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
লোধসা গ্রামের বাসিন্দা মেরাজ নামের ওই ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজিত “সমাধান দিবস” অনুষ্ঠানে সরাসরি জেলা প্রশাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্যার, আমার স্ত্রী নাসিমুন রাতে সাপে রূপ নেয়। সে আমাকে তাড়া করে কামড়ানোর জন্য। আমি আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না।”
মেরাজের দাবি, তার স্ত্রী একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। “সে আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে, আমি প্রতিরাতে ভয় পাই, কখন জানি ঘুমের মধ্যে আমাকে মেরে ফেলে,”—বলেন তিনি। মেরাজ আরও জানান, একবার স্ত্রী সাপের রূপ নিয়ে তাকে দংশনও করেছেন বলে তার সন্দেহ।
এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও উপবিভাগীয় কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে এবং একে ‘সম্ভাব্য মানসিক হয়রানি ও পারিবারিক বিরোধ’-এর অভিযোগ হিসেবে দেখছে।
সীতাপুরের এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগটি অস্বাভাবিক হলেও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগকারী মানসিক চাপ বা বিভ্রান্তিতে আছেন কি না, তা-ও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন থাকায় কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, “প্রতিটি অভিযোগ আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগটি সামনে আসার পর মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ ভাইরাল হয়ে যায়। হাজারো নেটিজেন হাস্যরসাত্মক মন্তব্যে মুখর হয়ে ওঠেন। কেউ লিখেছেন, “লোকটা তো ভাগ্যবান, শ্রীদেবীর নাগিনা
তবে অনেকেই ঘটনাটিকে কৌতুক হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা বা দাম্পত্য কলহের ফল হিসেবে দেখছেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ অনেক সময় ‘ডিলিউশনাল পারসিকিউটরি ডিসঅর্ডার’ বা বিভ্রমজনিত আতঙ্ক থেকে আসতে পারে, যেখানে একজন ব্যক্তি বাস্তবতাবিরোধী কল্পনায় বিশ্বাস স্থাপন করেন।
যাই হোক, মেরাজ-নাসিমুন দম্পতির এই অদ্ভুত ঘটনা এখন গোটা সীতাপুর জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং তারা আশাবাদী—খুব শিগগিরই বাস্তবতা স্পষ্ট হবে।
সূত্র: এনডিটিভি











