সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এস আলমের সম্পদ বিক্রি করে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ ও অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৩৬৮ Time View

ISLAMI BANK MANABANDHAN

ISLAMI BANK MANABANDHAN

রাজধানীর ভিআইপি রোডে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে (৬ অক্টোবর ২০২৫) এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “বৈষম্য বিরোধী চাকুরি প্রত্যাশী পরিষদ” এবং “ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম”-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট ও এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করে ব্যাংকিং খাতকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। বক্তারা বলেন, “এস আলমের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব সম্পদ বিক্রি করে ইসলামী ব্যাংকের সমস্ত ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের আমানতের টাকায় কোনো ব্যক্তির বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা সহ্য করা হবে না।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও দাবি জানান, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকে যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন—তাদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই সময় থেকে ব্যাংকটির নিয়োগ ও পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ঘটে, যা ইসলামী ব্যাংকের নীতিমালা ও ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং নীতির পরিপন্থী।

বৈষম্য বিরোধী চাকুরি প্রত্যাশী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একসময় ছিল দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নীতিনিষ্ঠ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমানে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে এটি একটি দেউলিয়া ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের অনেকেই দক্ষতা নয়, বরং প্রভাব ও ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।”

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা গ্রাহক হিসেবে ব্যাংকের টাকার ওপর আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু এস আলম গ্রুপ ও তাদের প্রভাবাধীন কর্মকর্তারা আমাদের আমানতকে বিপদের মুখে ফেলেছেন। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে ব্যাংক খাতে এক ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দেবে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সংকট কেবল একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়, এটি দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি। তারা দাবি করেন, সরকার যদি এখনই দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনে, তবে গ্রাহকদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

কর্মসূচিতে শত শত চাকরি প্রত্যাশী তরুণ ও ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহক অংশ নেন। তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে লিখেন—“জনগণের টাকা ফেরত চাই”, “অবৈধ নিয়োগ বন্ধ করো”, “এস আলমের সম্পদ বিক্রি করে ঋণ শোধ করো”—এমন নানা শ্লোগান।

শেষে বক্তারা ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে যদি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋণ পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।

এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও, অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ গ্রাহক, চাকরি প্রত্যাশী এবং সচেতন নাগরিকদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

SOURCE: SOCIAL MEDIA

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এস আলমের সম্পদ বিক্রি করে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ ও অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন

Update Time : ০৯:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ISLAMI BANK MANABANDHAN

রাজধানীর ভিআইপি রোডে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে (৬ অক্টোবর ২০২৫) এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “বৈষম্য বিরোধী চাকুরি প্রত্যাশী পরিষদ” এবং “ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম”-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট ও এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করে ব্যাংকিং খাতকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। বক্তারা বলেন, “এস আলমের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব সম্পদ বিক্রি করে ইসলামী ব্যাংকের সমস্ত ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের আমানতের টাকায় কোনো ব্যক্তির বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা সহ্য করা হবে না।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও দাবি জানান, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকে যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন—তাদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই সময় থেকে ব্যাংকটির নিয়োগ ও পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ঘটে, যা ইসলামী ব্যাংকের নীতিমালা ও ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং নীতির পরিপন্থী।

বৈষম্য বিরোধী চাকুরি প্রত্যাশী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একসময় ছিল দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নীতিনিষ্ঠ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমানে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে এটি একটি দেউলিয়া ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের অনেকেই দক্ষতা নয়, বরং প্রভাব ও ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।”

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা গ্রাহক হিসেবে ব্যাংকের টাকার ওপর আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু এস আলম গ্রুপ ও তাদের প্রভাবাধীন কর্মকর্তারা আমাদের আমানতকে বিপদের মুখে ফেলেছেন। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে ব্যাংক খাতে এক ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দেবে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সংকট কেবল একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়, এটি দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি। তারা দাবি করেন, সরকার যদি এখনই দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনে, তবে গ্রাহকদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

কর্মসূচিতে শত শত চাকরি প্রত্যাশী তরুণ ও ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহক অংশ নেন। তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে লিখেন—“জনগণের টাকা ফেরত চাই”, “অবৈধ নিয়োগ বন্ধ করো”, “এস আলমের সম্পদ বিক্রি করে ঋণ শোধ করো”—এমন নানা শ্লোগান।

শেষে বক্তারা ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে যদি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋণ পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।

এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও, অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ গ্রাহক, চাকরি প্রত্যাশী এবং সচেতন নাগরিকদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

SOURCE: SOCIAL MEDIA