সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলে ক্ষতিগ্রস্ত গণঅধিকার ও এনসিপি: রাশেদ খানের অভিযোগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৫৮ Time View

1759510490 bb325d4a9c79cfa7ad925841537e0c7b

1759510490 bb325d4a9c79cfa7ad925841537e0c7b

জামায়াত ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘অন্য দলে নিজেদের কর্মী যুক্ত করার নীতি’র কারণে দেশের উদীয়মান দুটি তরুণ নেতৃত্বভিত্তিক দল—গণঅধিকার পরিষদ ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক বিশদ পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জামায়াত-শিবিরের প্রতি রাজনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে ‘স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

রাশেদ খান লিখেছেন, “জামায়াত ও শিবিরের অন্য দলে নিজেদের কর্মী যুক্ত করার রাজনীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি। তারুণ্যের প্রতিনিধিত্বকারী এই দুই দলের ভেতরে তারা নিজেদের লোক যুক্ত করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, তাদের এই ‘গোপন যুক্তকরণ নীতি’র কারণে আরও অনেক রাজনৈতিক দলও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার শিকার হয়েছে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “রাজনীতি ছাড়াও তারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতেও পরিচয় গোপন রেখে নিজেদের লোক প্রবেশ করাচ্ছে। এতে এসব সংগঠনের স্বাভাবিক ও স্বাধীন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গণমাধ্যম, সাহিত্য, শিল্পকলা ও নাগরিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এদের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি বড় হুমকি।”

রাশেদ খান বলেন, “বাম, ডান কিংবা মধ্যপন্থি—কোনো ধারা এই নীতি থেকে মুক্ত নয়। অথচ গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়টিতে জামায়াত-শিবির তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সুযোগ পেয়েছে নিজেদের পুনর্গঠনের। তারা চাইলে উন্মুক্তভাবে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারত, কিন্তু এর পরিবর্তে তারা গোপন প্রভাব বিস্তারের পথ বেছে নিয়েছে।”

তিনি জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশে আরও লিখেছেন, “যদি তারা সত্যিই বাংলাদেশের মধ্যপন্থি ধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চায়, সেটা অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু সেই রাজনীতি হতে হবে সম্পূর্ণ প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। অন্য দলের মধ্যে ঢুকে প্রভাব বিস্তারের এই গোপন রাজনীতি অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে, গণতন্ত্র দুর্বল হবে এবং বিরাজনীতিকরণ আরও গভীর হবে।”

রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, “দেশের রাজনীতি যদি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে জামায়াত-শিবিরও শেষ পর্যন্ত এর দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। তারা ইসলামকে রাজনীতিতে আনতে চাইলেও এখন যেভাবে করছে, তাতে উল্টো ইসলামিক রাজনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ইসলামকে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার বানানো হলে মানুষ ইসলামিক রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাবে।”

তার পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “ইসলামিক রাজনীতি করলে সেটাই পুরোপুরি করতে হবে—মধ্যপন্থি রাজনীতি করলে সেটাই সৎভাবে করতে হবে। ইসলামকে কৌশলের আড়ালে ব্যবহার করা মানে ইসলামকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা। এ ধরনের দ্বিচারিতা ইসলাম, রাজনীতি ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এমন ভুল থেকে রক্ষা করুন।”

এই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে রাশেদ খানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে এটিকে ‘রাজনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টির প্রয়াস’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদ খানের এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলে ক্ষতিগ্রস্ত গণঅধিকার ও এনসিপি: রাশেদ খানের অভিযোগ

Update Time : ১২:০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

1759510490 bb325d4a9c79cfa7ad925841537e0c7b

জামায়াত ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘অন্য দলে নিজেদের কর্মী যুক্ত করার নীতি’র কারণে দেশের উদীয়মান দুটি তরুণ নেতৃত্বভিত্তিক দল—গণঅধিকার পরিষদ ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক বিশদ পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জামায়াত-শিবিরের প্রতি রাজনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে ‘স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

রাশেদ খান লিখেছেন, “জামায়াত ও শিবিরের অন্য দলে নিজেদের কর্মী যুক্ত করার রাজনীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি। তারুণ্যের প্রতিনিধিত্বকারী এই দুই দলের ভেতরে তারা নিজেদের লোক যুক্ত করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, তাদের এই ‘গোপন যুক্তকরণ নীতি’র কারণে আরও অনেক রাজনৈতিক দলও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার শিকার হয়েছে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “রাজনীতি ছাড়াও তারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতেও পরিচয় গোপন রেখে নিজেদের লোক প্রবেশ করাচ্ছে। এতে এসব সংগঠনের স্বাভাবিক ও স্বাধীন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গণমাধ্যম, সাহিত্য, শিল্পকলা ও নাগরিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এদের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি বড় হুমকি।”

রাশেদ খান বলেন, “বাম, ডান কিংবা মধ্যপন্থি—কোনো ধারা এই নীতি থেকে মুক্ত নয়। অথচ গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়টিতে জামায়াত-শিবির তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সুযোগ পেয়েছে নিজেদের পুনর্গঠনের। তারা চাইলে উন্মুক্তভাবে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারত, কিন্তু এর পরিবর্তে তারা গোপন প্রভাব বিস্তারের পথ বেছে নিয়েছে।”

তিনি জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশে আরও লিখেছেন, “যদি তারা সত্যিই বাংলাদেশের মধ্যপন্থি ধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চায়, সেটা অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু সেই রাজনীতি হতে হবে সম্পূর্ণ প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। অন্য দলের মধ্যে ঢুকে প্রভাব বিস্তারের এই গোপন রাজনীতি অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে, গণতন্ত্র দুর্বল হবে এবং বিরাজনীতিকরণ আরও গভীর হবে।”

রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, “দেশের রাজনীতি যদি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে জামায়াত-শিবিরও শেষ পর্যন্ত এর দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। তারা ইসলামকে রাজনীতিতে আনতে চাইলেও এখন যেভাবে করছে, তাতে উল্টো ইসলামিক রাজনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ইসলামকে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার বানানো হলে মানুষ ইসলামিক রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাবে।”

তার পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “ইসলামিক রাজনীতি করলে সেটাই পুরোপুরি করতে হবে—মধ্যপন্থি রাজনীতি করলে সেটাই সৎভাবে করতে হবে। ইসলামকে কৌশলের আড়ালে ব্যবহার করা মানে ইসলামকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা। এ ধরনের দ্বিচারিতা ইসলাম, রাজনীতি ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এমন ভুল থেকে রক্ষা করুন।”

এই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে রাশেদ খানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে এটিকে ‘রাজনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টির প্রয়াস’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদ খানের এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।