গাজা ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
- Update Time : ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
- / ১২০ Time View

গাজামুখী মানবিক ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-তে ইসরায়েলের হামলা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীদের আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় বহু দেশ একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার গভীর রাতে গাজামুখী ফ্লোটিলার ওপর ইসরায়েলি নৌবাহিনী হঠাৎ অভিযান চালায়। বহরের অন্তত ১৩টি জাহাজ থামিয়ে সেগুলোতে ওঠে ইসরায়েলি সেনারা। তারা নৌযান থেকে চলমান সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়ে যাত্রীদের আটক করে। আটক হওয়া ২০০-রও বেশি স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, আইনপ্রণেতা ও সামাজিক সংগঠকরা। পরবর্তীতে তাদের ইসরায়েলের একটি নৌবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পরপরই বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা শুরু হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম একে ভীতি প্রদর্শন ও জবরদস্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে যাওয়া নিরস্ত্র বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবীদের বাধা দিয়ে ইসরায়েল মানবতার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। তিনি জানান, আটক হওয়া জাহাজগুলোতে ১২ জন মালয়েশীয় নাগরিকও রয়েছেন, যাদের মুক্তির জন্য তার সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ফ্যাসিবাদী ও সামরিকতাবাদী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছে। তুরস্ক ঘোষণা দিয়েছে, আটক হওয়া তুর্কি নাগরিকদের মুক্তির জন্য তারা আইনি ও কূটনৈতিক সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস ঘটনাটিকে শান্তিপূর্ণ মানবিক উদ্যোগের ওপর নগ্ন হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফ্লোটিলার যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের দায়িত্ব। আয়ারল্যান্ড সরকার ফ্লোটিলায় থাকা তাদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ফরাসি সদস্য এমা ফুরো বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে
বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ
ঘটনার পরপরই স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার জনগণও রাস্তায় নেমে আটক কর্মীদের মুক্তির দাবি জানায়। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে আটক হওয়া কর্মীদের মুক্তির পাশাপাশি গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়। জানা গেছে, আটক হওয়া জাহাজগুলোর একটিতে আর্জেন্টাইন আইনপ্রণেতা সেলেস্ট ফিয়েরোও রয়েছেন।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা, মেক্সিকো সিটি, বোগোতা ও মাদ্রিদের রাস্তায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, গাজার সাধারণ মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখা মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে।
ইসরায়েলের অবস্থান
অন্যদিকে, ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক হওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নৌ বন্দরে আনা হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, এই নৌবহর গাজায় অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা করছিল, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের এই যুক্তিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে।
ফ্লোটিলার ঘোষণা
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাধা সত্ত্বেও তাদের মানবিক মিশন থেমে থাকবে না। বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা ও সমর্থনের মাধ্যমে তারা আবারও গাজার মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেবে।
গাজার জন্য মানবিক ত্রাণ পৌঁছাতে গিয়ে বিশ্বনেতৃবৃন্দ, আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকারকর্মীদের এমনভাবে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়ল। একদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ইসরায়েলকে সমর্থন জারি রাখলেও অপরদিকে জনমত ক্রমশ ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক অধিকারের পক্ষে জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা নিঃসন্দেহে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কূটনৈতিক ও মানবিক প্রেক্ষাপটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা ও রয়টার্স।











