সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্বশুরের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস, রংপুরে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১২৮ Time View

c84c8e7d22d4ae34bd0584a8449e25e8 68dce0c5735dd

c84c8e7d22d4ae34bd0584a8449e25e8 68dce0c5735dd

রংপুর নগরীর বালাপাড়া এলাকায় ঘটে গেছে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। শ্বশুরের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং পরবর্তীতে আপত্তিকর একটি ভিডিও ফাঁসের জেরে মিতু বানু (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর বালাপাড়া এলাকায় মিতু বানুর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত মিতু বানু বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম গ্রামের মেনাজুল মিয়ার মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনরা মরদেহ নামানোর চেষ্টা করলে খবর পেয়ে মিতুর ভাইসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্বামীর পরিবারের লোকজন নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালায়।

যৌন হয়রানি ভিডিও ফাঁসের অভিযোগ

স্থানীয়রা জানান, মিতুর স্বামী সাহানুর রহমান সোহান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এ সুযোগে তার বাবা রাজা মিয়া পুত্রবধূর প্রতি বারবার অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং যৌন হয়রানি চালাতেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে আপত্তিকর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর থেকেই মিতুর ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

আটক ছিনতাই নাটক

ঘটনার পর পুলিশ সাহানুর রহমান সোহানকে আটক করে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার স্বজনরা পুলিশের হাত থেকে সোহানকে ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে এলাকায় আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালালেও সোহানুর ও তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যায়নি। বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

স্বজনদের অভিযোগ

নিহত গৃহবধূর মামা শফি আলম সাংবাদিকদের বলেন, “তিন বছর আগে আমার ভাগ্নির বিয়ে হয় সোহানের সঙ্গে। বিয়ের জন্য হাত-পা ধরে অনুরোধ করেছিল রাজা মিয়া। এখন তারা আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে। তার ১০ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে। শিশুটি ঘরে রেখে কীভাবে এমন নির্মম কাজ করা হলো? আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”

পুলিশের বক্তব্য

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, “নিহত মিতু বানুর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। আপত্তিকর একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হিসেবে ধরে তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

সামাজিক প্রতিক্রিয়া প্রশ্ন

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি এটি আত্মহত্যা হয়, তবে কেন পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হলো? আবার যদি হত্যা হয়, তবে পুলিশ আসামিদের এখনো কেন গ্রেপ্তার করতে পারল না?

রংপুরে মিতু বানুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এলো যৌন হয়রানি, মাদকাসক্ত স্বামী, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন এবং সামাজিক অস্থিরতার ভয়াবহ চিত্র। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে পারে কিনা। এ ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের সামগ্রিক প্রতিরোধের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শ্বশুরের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস, রংপুরে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ

Update Time : ০৫:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

c84c8e7d22d4ae34bd0584a8449e25e8 68dce0c5735dd

রংপুর নগরীর বালাপাড়া এলাকায় ঘটে গেছে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। শ্বশুরের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং পরবর্তীতে আপত্তিকর একটি ভিডিও ফাঁসের জেরে মিতু বানু (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর বালাপাড়া এলাকায় মিতু বানুর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত মিতু বানু বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম গ্রামের মেনাজুল মিয়ার মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনরা মরদেহ নামানোর চেষ্টা করলে খবর পেয়ে মিতুর ভাইসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্বামীর পরিবারের লোকজন নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালায়।

যৌন হয়রানি ভিডিও ফাঁসের অভিযোগ

স্থানীয়রা জানান, মিতুর স্বামী সাহানুর রহমান সোহান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এ সুযোগে তার বাবা রাজা মিয়া পুত্রবধূর প্রতি বারবার অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং যৌন হয়রানি চালাতেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে আপত্তিকর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর থেকেই মিতুর ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

আটক ছিনতাই নাটক

ঘটনার পর পুলিশ সাহানুর রহমান সোহানকে আটক করে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার স্বজনরা পুলিশের হাত থেকে সোহানকে ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে এলাকায় আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালালেও সোহানুর ও তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যায়নি। বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

স্বজনদের অভিযোগ

নিহত গৃহবধূর মামা শফি আলম সাংবাদিকদের বলেন, “তিন বছর আগে আমার ভাগ্নির বিয়ে হয় সোহানের সঙ্গে। বিয়ের জন্য হাত-পা ধরে অনুরোধ করেছিল রাজা মিয়া। এখন তারা আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে। তার ১০ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে। শিশুটি ঘরে রেখে কীভাবে এমন নির্মম কাজ করা হলো? আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”

পুলিশের বক্তব্য

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, “নিহত মিতু বানুর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। আপত্তিকর একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হিসেবে ধরে তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

সামাজিক প্রতিক্রিয়া প্রশ্ন

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি এটি আত্মহত্যা হয়, তবে কেন পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হলো? আবার যদি হত্যা হয়, তবে পুলিশ আসামিদের এখনো কেন গ্রেপ্তার করতে পারল না?

রংপুরে মিতু বানুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এলো যৌন হয়রানি, মাদকাসক্ত স্বামী, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন এবং সামাজিক অস্থিরতার ভয়াবহ চিত্র। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে পারে কিনা। এ ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সমাজের সামগ্রিক প্রতিরোধের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।