স্ত্রীর নির্দেশেই বিভিন্ন দেশে হামলা চালান নেতানিয়াহু, বেরিয়ে এলো অবাক করা তথ্য
- Update Time : ১১:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৫৮ Time View

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে ইসরায়েলি কনসুলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা শুধু উপস্থিত শ্রোতাদের অবাক করেনি, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গাজা ও পশ্চিম তীরে যখন ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং হামলার কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, ঠিক সেই সময় নেতানিয়াহু হালকা রসিকতার ভঙ্গিতে স্বীকার করেন—তার সামরিক আক্রমণের সিদ্ধান্তগুলোতে স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুরই নির্দেশনা থাকে।
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী-ই ঠিক করেন কখন কোথায় হামলা হবে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের “পুনর্জাগরণ” ও আজকের অবস্থানে আসার পেছনে তার স্ত্রীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক সিদ্ধান্তে স্ত্রীর প্রভাব?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য নিছক রসিকতা হলেও তা ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একজন গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি প্রকাশ্যে বলেন যে তার স্ত্রী হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি গুরুতর সমালোচনার জন্ম দেবে—যা ইতোমধ্যেই হচ্ছে।
ইহুদিদের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরা
এসময় নেতানিয়াহু আবারও ইতিহাস টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুগে যুগে ইহুদিরা বিশ্বজুড়ে অপমান, অপবাদ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে আজকের পার্থক্য হলো, তাদের হাতে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও আধুনিক অস্ত্র রয়েছে। তার ভাষায়, “আজ আমাদের হাতে তরবারি আছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষের পথে, যা অনেক বিশ্লেষকের চোখে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং রাজনৈতিকভাবে জনমত প্রভাবিত করার কৌশল মাত্র।
আরবদের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে আরব বিশ্বকেও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আনা হয়। তিনি ইতিহাস বিকৃত করে বলেন, “প্রথম মিথ্যা হলো, ইহুদিরা নাকি আরবদের তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু আসল সত্য হলো, আরবরাই ইহুদিদের তাদের ভূমি থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।”
তার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এ ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আরব বিশ্বের সঙ্গে ইতোমধ্যেই সম্পর্ক তলানিতে, এর মধ্যেই এমন বক্তব্য সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। হাজার হাজার নিরীহ নারী-শিশুর মৃত্যু এবং অবকাঠামো ধ্বংসের দায়ে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। ঠিক সেই সময়ে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য ইসরায়েলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
স্ত্রীর পরামর্শে বা নির্দেশে সামরিক হামলা চালানোর নেতানিয়াহুর মন্তব্য নিছক রসিকতা হোক বা না হোক, এটি নিঃসন্দেহে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে। এমনিতেই গাজায় গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েল ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে, তার ওপর নেতানিয়াহুর এই ধরনের বক্তব্য যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করছে।











