সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার হামলায় ইউরোপের বিমানবন্দরে চেক-ইন বিপর্যয়: যাত্রী ভোগান্তি চরমে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৭ Time View

lndnr hthr antrjtk bmnbndrr trmnl 2 e ytrr ht ycchn

lndnr hthr antrjtk bmnbndrr trmnl 2 e ytrr ht ycchn

ইউরোপের আকাশপথে ভরসার সংকট তৈরি করেছে সাম্প্রতিক সাইবার হামলা। শুক্রবার শুরু হওয়া এই হামলার কারণে স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও বোর্ডিং সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে একাধিক বড় বিমানবন্দরে। লন্ডনের হিথ্রো, জার্মানির বার্লিন ব্র্যান্ডেনবুর্গ এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বিমানবন্দর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনায় মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

ব্রাসেলস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার নির্ধারিত ২৫৭ ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তারা। আগের দিন শনিবার ২৩৪ ফ্লাইটের মধ্যে ২৫টি বাতিল হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার নির্ধারিত অর্ধেক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্যই এই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে যাত্রী ভোগান্তি চরমে ওঠে। চেক-ইন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন, হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রী বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হন। রবিবার হিথ্রো ও বার্লিনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ব্রাসেলসে দুর্যোগ অব্যাহত ছিল।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরটিএক্সের মালিকানাধীন কলিন্স অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, তারা চারটি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এমইউএসই (MUSE) সফটওয়্যারের নিরাপত্তা সংস্করণ আপডেট করার শেষ ধাপে রয়েছে। তবে ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনো নিরাপদ আপডেটেড সফটওয়্যার সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণেই সোমবারের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর অর্ধেক বাতিল করতে হয়েছে।

কলিন্স অ্যারোস্পেসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনে ম্যানুয়াল চেক-ইন প্রক্রিয়া চালু রাখা হবে যাতে অন্তত ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করা যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, তাদের সফটওয়্যার আক্রান্ত হওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

অ্যাভিয়েশন ডেটা সংস্থা সিরিয়াম জানিয়েছে, সাইবার হামলার প্রভাব বিমানবন্দরভেদে ভিন্ন রকম। হিথ্রোতে বিলম্ব সীমিত ছিল, বার্লিনে মাঝারি আকারের বিঘ্ন দেখা দেয়, তবে ব্রাসেলসে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়েছে।

ইতিমধ্যে ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো হামলার উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি কোনো সংগঠিত সাইবার অপরাধী চক্র কিংবা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হামলা হতে পারে। এর আগে ইউরোপে স্বাস্থ্যসেবা, গাড়ি উৎপাদন ও খুচরা ব্যবসা খাতে একই ধরনের সাইবার হামলা দেখা গেছে। ব্রিটিশ গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারকে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছিল এবং খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার শত শত মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও দেখিয়ে দিল যে আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার নিরাপত্তা কতটা প্রযুক্তিনির্ভর এবং একই সঙ্গে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা ঠেকাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাইবার হামলায় ইউরোপের বিমানবন্দরে চেক-ইন বিপর্যয়: যাত্রী ভোগান্তি চরমে

Update Time : ০৭:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

lndnr hthr antrjtk bmnbndrr trmnl 2 e ytrr ht ycchn

ইউরোপের আকাশপথে ভরসার সংকট তৈরি করেছে সাম্প্রতিক সাইবার হামলা। শুক্রবার শুরু হওয়া এই হামলার কারণে স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও বোর্ডিং সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে একাধিক বড় বিমানবন্দরে। লন্ডনের হিথ্রো, জার্মানির বার্লিন ব্র্যান্ডেনবুর্গ এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বিমানবন্দর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনায় মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

ব্রাসেলস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিবার নির্ধারিত ২৫৭ ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তারা। আগের দিন শনিবার ২৩৪ ফ্লাইটের মধ্যে ২৫টি বাতিল হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার নির্ধারিত অর্ধেক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্যই এই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে যাত্রী ভোগান্তি চরমে ওঠে। চেক-ইন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন, হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রী বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হন। রবিবার হিথ্রো ও বার্লিনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ব্রাসেলসে দুর্যোগ অব্যাহত ছিল।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরটিএক্সের মালিকানাধীন কলিন্স অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, তারা চারটি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এমইউএসই (MUSE) সফটওয়্যারের নিরাপত্তা সংস্করণ আপডেট করার শেষ ধাপে রয়েছে। তবে ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনো নিরাপদ আপডেটেড সফটওয়্যার সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণেই সোমবারের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর অর্ধেক বাতিল করতে হয়েছে।

কলিন্স অ্যারোস্পেসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনে ম্যানুয়াল চেক-ইন প্রক্রিয়া চালু রাখা হবে যাতে অন্তত ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করা যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, তাদের সফটওয়্যার আক্রান্ত হওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

অ্যাভিয়েশন ডেটা সংস্থা সিরিয়াম জানিয়েছে, সাইবার হামলার প্রভাব বিমানবন্দরভেদে ভিন্ন রকম। হিথ্রোতে বিলম্ব সীমিত ছিল, বার্লিনে মাঝারি আকারের বিঘ্ন দেখা দেয়, তবে ব্রাসেলসে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়েছে।

ইতিমধ্যে ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো হামলার উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি কোনো সংগঠিত সাইবার অপরাধী চক্র কিংবা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হামলা হতে পারে। এর আগে ইউরোপে স্বাস্থ্যসেবা, গাড়ি উৎপাদন ও খুচরা ব্যবসা খাতে একই ধরনের সাইবার হামলা দেখা গেছে। ব্রিটিশ গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারকে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছিল এবং খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার শত শত মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও দেখিয়ে দিল যে আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার নিরাপত্তা কতটা প্রযুক্তিনির্ভর এবং একই সঙ্গে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা ঠেকাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।