সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: ভোক্তাদের জন্য নতুন বোঝা
- Update Time : ০৫:২৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৯৯ Time View

ভোজ্যতেলের বাজারে টানা অস্থিরতা চলতে থাকায় সরকার আবারও সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সভাপতিত্বে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জানা যায়, খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিন তেল এবং পাম তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট নতুন মূল্য কত হবে, তা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পরে ঘোষণা করা হবে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা করছে এবং সেই বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই দেশীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের প্রভাব প্রায়শই উল্টোভাবে কাজ করে। অর্থাৎ, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে তা কমে না, বরং বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ানো হয়। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই ভোজ্যপণ্যে ভোক্তাদের ভোগান্তি দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকার বারবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে দাম বাড়ানোর অনুমোদন দিচ্ছে, অথচ ভোক্তাদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর কোনো নীতিমালা গ্রহণ করছে না। দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পুরোপুরি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেয় না? যদি বিশ্ববাজারে হ্রাস-বৃদ্ধির অজুহাতেই দাম ওঠানামা করতে থাকে, তবে এর সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, আর সর্বনাশ হচ্ছে ভোক্তাদের।
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যখনই দাম বাড়ানো হয়, তখনই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতোমধ্যেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে, তার সঙ্গে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো নিঃসন্দেহে হবে আরেকটি বড় বোঝা।
অতএব, এখন প্রশ্ন থেকে যায়—এভাবে যদি বাজারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ভূমিকা কোথায়? নাগরিকরা মনে করছেন, সরকার যদি প্রকৃতপক্ষে জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিতো, তবে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতিমালার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতো। অন্যথায়, প্রতিবারের মতো এবারও ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে, আর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী লাভবান হবে।
এটি কেবল দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়, বরং নাগরিকদের কাঁধে চাপানো আরেকটি বোঝা।











