সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ইস্যুতে টানা উত্তেজনার পর কর্মবিরতি, আজ জরুরি সিন্ডিকেট সভা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১১৩ Time View

RABI UNI

RABI UNI
 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে বসে আছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ইস্যু ঘিরে টানা উত্তেজনার পর আজ রোববার সকালে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরোধ ও শিক্ষক–কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কিংবা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। শনিবার রাতভর যে তীব্র অস্থিরতা ছিল, রবিবার সকালে তার ছায়া আর চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের জাতীয়তাবাদী ফোরামের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আজ পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও প্রশাসন ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও কোনো প্রকার ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ যাতায়াতের মাধ্যম ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে আসলেও তাঁরা জানিয়েছেন, কর্মবিরতির কারণে কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সমিতির সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, “আজ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কেউই কোনো ধরনের কাজ করবেন না। তবে আমরা দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন বা জমায়েত করব না। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শনিবারের ঘটনাপ্রবাহ ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। দুপুরে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের গাড়ি শিক্ষার্থীরা আটকে দেন। পরে তিনি হেঁটে বাসভবনের দিকে গেলে শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তিনি প্রক্টরের সঙ্গে জুবেরী ভবনে আশ্রয় নেন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক–কর্মকর্তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীরা সহ-উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষকদের ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আবদুল আলিম কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় রাত সাড়ে ১১টার দিকে, যখন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। নারী-পুরুষ শিক্ষার্থী মিলে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় অবরুদ্ধ শিক্ষকেরা প্রায় সাত ঘণ্টা পর মুক্তি পান। রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানায়, বিষয়টি নিয়ে রবিবার জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা মানেননি, তাঁরা সরাসরি উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতায় কোটা বাতিল চান।

রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব বাসভবনের ফটকে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, শিক্ষক–কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে এবং জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এটি বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে তাঁরা ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করেন।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভর্তি উপকমিটির সভায় ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রাতে বিজ্ঞপ্তি আকারে তা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলনে নামে।

এখন নজর আজকের সিন্ডিকেট সভার দিকে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে থাকলেও ক্যাম্পাস আপাতত শান্ত। শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। আজকের সিন্ডিকেট সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়, তার ওপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ইস্যুতে টানা উত্তেজনার পর কর্মবিরতি, আজ জরুরি সিন্ডিকেট সভা

Update Time : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
RABI UNI
 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে বসে আছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ইস্যু ঘিরে টানা উত্তেজনার পর আজ রোববার সকালে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরোধ ও শিক্ষক–কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কিংবা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। শনিবার রাতভর যে তীব্র অস্থিরতা ছিল, রবিবার সকালে তার ছায়া আর চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের জাতীয়তাবাদী ফোরামের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আজ পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও প্রশাসন ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও কোনো প্রকার ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ যাতায়াতের মাধ্যম ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে আসলেও তাঁরা জানিয়েছেন, কর্মবিরতির কারণে কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সমিতির সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, “আজ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কেউই কোনো ধরনের কাজ করবেন না। তবে আমরা দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন বা জমায়েত করব না। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শনিবারের ঘটনাপ্রবাহ ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। দুপুরে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের গাড়ি শিক্ষার্থীরা আটকে দেন। পরে তিনি হেঁটে বাসভবনের দিকে গেলে শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তিনি প্রক্টরের সঙ্গে জুবেরী ভবনে আশ্রয় নেন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক–কর্মকর্তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীরা সহ-উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষকদের ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আবদুল আলিম কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় রাত সাড়ে ১১টার দিকে, যখন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। নারী-পুরুষ শিক্ষার্থী মিলে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় অবরুদ্ধ শিক্ষকেরা প্রায় সাত ঘণ্টা পর মুক্তি পান। রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানায়, বিষয়টি নিয়ে রবিবার জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা মানেননি, তাঁরা সরাসরি উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতায় কোটা বাতিল চান।

রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব বাসভবনের ফটকে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, শিক্ষক–কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে এবং জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এটি বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে তাঁরা ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করেন।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভর্তি উপকমিটির সভায় ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রাতে বিজ্ঞপ্তি আকারে তা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলনে নামে।

এখন নজর আজকের সিন্ডিকেট সভার দিকে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে থাকলেও ক্যাম্পাস আপাতত শান্ত। শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। আজকের সিন্ডিকেট সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়, তার ওপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।